ডিজিটাল ফরমেটে প্রচারনা চালিয়ে প্রসংশিত সাদরুল আহমদ খান

রাজনীতি সিলেট

আজকের দেশ রিপোর্ট : সিলেট-৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমা) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। মননয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের দারে দারে ঘুরে নিজ প্রচারনা চালাচ্ছেন। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিডিও ক্লিপে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাচ্ছেন সংসদের সাবেক ডেপুটি সার্জেন্ট-এট-আর্মস স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) সাদরুল আহমেদ খান। তিনি নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যও।

৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তে সাদরুল আহমেদ খান ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বিদেহী আত্নার মাফফেরাত কামনা করে শ্রদ্ধা জানান । করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মাহমুদ উস সামাদের মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়।

তার ব্যতিক্রমী এ-ই প্রচারণা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। করোনাকালে তার এই ই-ক্যাম্পেইন নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে প্রসংশিতও হয়েছে । স্বাস্থ্যবিধি মেন আর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে ভবিষ্যতে এরকম ই-ক্যাম্পেইন আরও দেখা যেতে পারে তার ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

এর আগে তিনি ৫ জুন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

ভিডিও বার্তায় সাদরুল আহমেদ খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এলাকার চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার লক্ষ্যে এই নির্বাচনে আমার অংশ নেয়ার চেষ্টা করছি। সিলেন -৩ আসনের উন্নয়েনর ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য আমার অংশ নেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের গর্ব, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত থেকে দেশে এবং বিদেশে কাজ করে সেবার সুযোগ পেয়েছি। আমার সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা আমাকে আত্মবিশ্বাসী দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলেছে। আমি যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করে দেশ সেবার দায়িত্ব নিতে সর্বদা প্রস্তুত।’

সাদরুল আহমেদ খান আরও বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে প্রায় এক দশক মহান জাতীয় সংসদে ডেপুটি সার্জেন্ট-এট-আর্মস হিসেবে প্রেষণে নিয়োজিত ছিলাম। যার ফলে পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস, প্রিভিলেজ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন, পার্লামেন্টারি বাজেট, পার্লামেন্ট সেশন, স্ট্যান্ডিং কমিটি, ইন্টার পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স, আইন প্রণয়ন কার্যাবলী ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে আমার স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। দুটি শীর্ষ আন্তজার্তিক সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওলেথ পার্লামেন্টারি এসোসিশয়নে কাজ করার আমার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপেওে আমি কাজ করেছি। একজন আইন প্রণেতার কাজ সম্পর্কে আমি সম্পূর্ন অবহত এবং সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সর্ম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, সাদরুল আহমেদ খানের বাবা মরহুম আব্দুল লতিফ খান বঙ্গবন্ধুর একজন একনিষ্ঠ কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সেনা শাসনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং প্রকাশ্যে জনসম্মুখে নির্যাতিত হয়েছিলেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কুলাউড়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মানসকন্যা মানননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আসনে আমাকে মনোনয়ন করলে আমি তারই নির্দেশনার পথে ৩৬০ আওলিয়ার অন্যতম শাহ মালুম রহমতুল্লাহর এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমার মানুষরে ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাব। সেই সাথে তারুন্যে অহংকার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে আমার সাধ্যমত ভুমিকা রাখব। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আর দলীয় মনোনয়ন একটি গণতান্ত্রিক উৎস । আর এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

প্রসঙ্গত, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচন ১৪ জুলাই (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে। এসব আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ১৫ জুন (মঙ্গলবার)।

মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৭ জুন (বৃহস্পতিবার)। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৩ জুন (বুধবার)। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২৪ জুন (বৃহস্পতিবার)।