রাজধানীতে কিশোর গ্যাং এর ১৮ সদস্য গ্রেফতার

অপরাধ রাজধানী

নিজাম উদ্দিন : গতকাল রাজধানীতে র‌্যাব-২ এর পৃথক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ সদস্য কিশোর গ্যাং গ্রেফতার।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়,লালবাগ,তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হতে কিশোর গ্যাং এর ১৮ সদস্য দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
র‍্যাবের বরাত দিয়ে র‍্যাব -২ এর এ এসপি ফজলু বলেন, অপরাধী গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা এলিট ফোর্স র‌্যাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং এটি র‌্যাবের চলমান আভিযানিক কর্মকান্ডেরই একটি অংশ। দেশের সন্ত্রাস কবলিত এলাকা সমূহে র‌্যাব এর অভিযানের ফলে জনগণ শান্তিতে জীবন যাপন করছে এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। র‌্যাব-২ তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কিশোর অপরাধের সাথে জড়িতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ সংশোধনের নিমিত্তে কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল ০৯ জুন ২০২১ তারিখ ১০. ঘটিকা হতে ১০ জুন ১১,ঘটিকা পর্যন্ত রাজধানীর লালবাগ, তেজগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযানে পরিচালনা করে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে কিশোর গ্যাং এর ১৮জন সদস্য গ্রেফতার। মোঃ আকাশ(২৭) পিতা- মোঃ ওসমান গনি,দেশের বাড়ি বরিশাল।
ফয়সাল মাহমুদ(২৬) পিতা- মোঃ হানিফ মিয়া জেলা- শরিয়তপুর।
মোঃ ইমরান(১৯) পিতা- আব্দুর রহিম,গ্রামের বাড়ি জামালপুর।
মোঃ মিরাজুল করিম(২৩)
পিতা- আব্দুল মোতালেব জেলা- শরিয়তপুর।
মামুনুর রশিদ চৌধুরী জনি (৩০) পিতা- মৃত এম এ তাহের চৌধুরী, হবিগঞ্জ।
ফারহান আহমেদ(২৩)পিতা- মৃত সালাউদ্দিন ঢাকা।
মোঃ আল আমিন(২৬) পিতা- আলি আকবর, জেলা- মুন্সীগঞ্জ।
মাসুদ রানা রাজ(২৪) পিতা- মোসলেম মোল্লা ঢাকা।
মোঃ নাহিদ(১৮) পিতা- মোঃ নিজাম উদ্দিন জেলা- বরিশাল। মোঃ শান্ত(১৮) পিতা- মোঃ তুন্নু মাতব্বর,গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর।
মোঃ রাব্বি আল মামুন(২৩) পিতা- মোঃ জালাল বেপারী জেলা- মুন্সিগঞ্জ।
মোঃ ফেরদৌস(১৮) পিতা- মোঃ কুদ্দুস তালুকদার ঢাকা।
মোঃ সামি(১২) পিতা- মোঃ মনির হোসেন জেলা- শেরপুর। মোঃ সাগর(১৩) পিতা- মোঃ জলিল, জেলা- নরসিংদী।
মোঃ আশিকুল ইসলাম (১২) পিতা- শাহীন আলম জেলা- মাদারীপুর।
মোঃ আলভি(১৪) পিতা- মোঃ আফজাল জেলা- ঢাকা।
মোঃ শান্ত(১৩) পিতা- মোঃ জুয়েল, জেলা- ময়মনসিংহ।মোঃ নয়ন (১৩), পিতা- মোঃ খোকন জেলা-ঢাকা।

র‍্যাব এদের কাজ থেকে যা যা উদ্ধার করেন।
১০টি ছুরি০৩টি ড্যাগার, ০২টি ক্ষুর ০২টি এন্টিকাটার ব্লেড, ০২টি তালা ভাঙ্গার যন্ত্র, ০২টি গ্রীল কাটার যন্ত্র এবং ০৮টি মোবাইলসহ গ্রেফতার করে।

র‍্যাবের অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেফতারকৃত এই কিশোর অপরাধীরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য। দির্গদিন দিন ধরে এই দুই গ্রুপ মিলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ছিনতাই করে যেতো। এরা সবাই আকাশ গ্রুপ’ এবং ‘সামী গ্রুপ’ এর সদস্য।

র‍্যাব সূত্রে আরো বলেন গ্রেফতারকৃত আসামীরা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক সেবন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সাথে জরিত ছিল,গ্রেফতারকৃতরা টিকটক লাইকিসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও শেয়ার/তৈরির মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াসহ বিভিন্ন বয়সী নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের মত নানাবিধ অনৈতিক কাজে লিপ্ত আছে বলে স্বীকার করে। প্রায়শঃই তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারকল্পে দলবদ্ধ হয়ে সংঘাত সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়া নিজেদের গ্রুপের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য অন্যান্য কিশোর গ্যাং এর সাথে মারামারিসহ নানা সশস্ত্র সংঘর্ষেও তারা জড়াতো।

একের পর এক কিশোর গ্যাং ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঢাকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, করে যাচ্ছে একের পর এক অপরাধ,গ্রেফতারও হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতেই কি কমবে কিশোর গ্যাং এর অপরাধ। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যাক্তিদের সাথে কিশোর গ্যাং বিষয় আলাপ করলে তারা বলেন একজন কিশোর জখন বাবা-মার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় তখনি অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে জরিয়ে পরে,তাই মা-বাবার যথেষ্ট খেয়াল খোঁচ রাখা খুব জরুরী। তাহলেই এই কিশোর গ্যাং হয়তো কমতে থাকবে বলে অনেকেরই ধারণা।

আসামীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে র‌্যাব-২ এর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করছেন আজকের দেশ নিউজকে।