ফের বাড়ল মৃত্যু-আক্রান্ত

এইমাত্র জাতীয় জীবন-যাপন সারাদেশ সাস্থ্য

৬ বিভাগেই সংক্রমণ বাড়তির দিকে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বব্যাপী তা-ব চালানো মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪০ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৮৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৫৭৬ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। এদিন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৯ হাজার ৪৪৭ জনের। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
একদিনে আড়াই হাজারের রোগীর পাশাপাশি এদিন শনাক্ত হওয়া রোগী সংখ্যা গত দেড় মাসের মধ্যেও সর্বোচ্চ।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল দুই হাজার ৯৫৫ জন একদিনে শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে শনাক্তের হর হার সাত দশমিক শূন্য এক, যা কিনা তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ছয় দশমিক শূন্য চার শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে শনাক্তের হার ১০ দশমিক শূন্য সাত, যা তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল সাত দশমিক ৯৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১১ দশমিক শূন্য এক শতাংশ, রংপুর বিভাগে শনাক্তের হার ৩২ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ, আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ আর সিলেট বিভাগে শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আগে ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১১ দশমিক শুন্য পাঁচ শতাংশ।
শনাক্তের হার কমা বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ১৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ আর খুলনা বিভাগে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, যা কিনা তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ।
এদিকে, তার আগের দিন (৭ জুন) বিভাগ ভিত্তিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে শনাক্তের হার ছিল পাঁচ দশমিক শূন্য শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ২১দশমিক ৩১ শতাংশ. খুলনা বিভাগে ৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ আর সিলেট বিভাগে ছিল ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন এপ্রিলের শেষ নাগাদ দেশে সংক্রমণের যে নি¤œগতি ছিল সেটা ঈদের পর বেড়ে যাবে। আর এখন তার সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত হয়ে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও শঙ্কার মুখে ফেলেছে। আর এবারে সংক্রমণ বৃদ্ধি শুরু হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তবে ধীরে ধীরে সে সংক্রমণ পুরো দেশই ছড়িয়ে পরছে বলে জানিয়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া সরকারের রোগতত্ত্ব , রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে দেশে প্রাপ্ত নমুনার ৮০ শতাংশ ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তাদের ধারণা দেশে ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে।
এদিকে, দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে শিথিলতার পরিচয় দিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
চার জুন থেকে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে এবং সেটা মঙ্গলবার (৮ জুন) পর্যন্ত বেড়ে ১২ শতাংশের বেশি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী কিছু জেলায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পরামর্শে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করছে। এটা সবার মঙ্গলের জন্য করা হচ্ছে।
আর এই বিধিনিষেধে জনগণের সহায়তার জন্যই করা মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনও জায়গায় শিথিলতার পরিচয় দিলে সেটি আমাদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
সীমান্তবর্তী জেলাসহ যেসব জায়গাতে সংক্রমণের হার বাড়ছে সেসব জায়গায় ‘অন্যরকম ব্যবস্থা’ নিতে হবে বলে বলেন কোভিড -১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা কত সে বিবেচনা নিয়ে সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখতে হবে। কারণ, রাজধানী ঢাকায় যে পরিমাণ মানুষ থাকেন রাজশাহী শহরে তার চেয়ে অনেক কম লোকের বাস। সে হিসেবে সংক্রমণের হারে অনেক তফাৎ। তাই সেভাবেই ধরতে হবে সংক্রমণের হার।
অধ্যাপক সহিদুল্লা বলেন, ঢাকাতে সংক্রমণের হার সাত দশমিকের কিছুটা বেশি, মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা সীমান্তবর্তী এলাকাতে। যেখানে শনাক্তের হার ১৩ থেকে শুরু করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।
তাই আমাদের (জাতীয় পরামর্শক কমিটি) পরার্মশ ছিল, পুরো বাংলাদেশেই বিধিনিষেধ চলুক কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকাতে ভিন্ন লকডাউন দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার লকডাউন কঠোর হতে হবে। যেখানে শুধু জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত যেমন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ছাড়া সবাই ঘরে থাকবে, কেউ বের হতে পারবে না। এমনকী কোনও দোকানেও যেতে পারবে না, কেবলমাত্র খুব জরুরি কিছু না হলে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেকটা কার্ফিউয়ের মতো। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, যেসব জেলাগুলো সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে সেখানে অন্তত দুই সপ্তাহ কার্ফিয়ের মতো চলা যায় তবে সংক্রমণ ১০ এর নিচে চলে আসবে। কিন্তু এটা যদি না করা হয়, যদি ঢিলে ঢালা লকডাউন হয় তাহলে সংক্রমণের কমার হার হবে ধীরগতির। বিধিনিষেধ না থাকলে সংক্রমণ স্ফুলিংগের মতো ছড়াতে থাকবে।
তিনি জানান, আমাদের জোর সুপারিশ সীমান্তবর্তী এলাকাতে অন্যরকম লকডাউন দিতে হবে এবং তাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিসহ সব ধরনের মানুষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে, মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এটা নিশ্চিত করা যাবে না।
এদিকে বিশ্বব্যাপী তা-ব চালানো মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৪০ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৮৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৫৭৬ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। এদিন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৯ হাজার ৪৪৭ জনের। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এর আগে বুধবার (৯ জুন) দেশে করোনায় ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া আরও ২ হাজার ৫৩৭ জনের করোনা শনাক্তের কথাও জানানো হয়।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ১০ হাজার ২৩১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫১৩ জন। আর গতকাল বুধবার (৯ জুন) বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৬৪ জন এবং আক্রান্ত ছিল ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১২৭ জন। ফলে আক্রান্ত ও মৃত্যু আবারও বেড়ে গেছে।
বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৬১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ জনের।
আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ৭২ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৫ জনের।
আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯১ জনের।
আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ২৫ হাজার ৪৯২ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন এক লাখ ১০ হাজার ২০২ জন।
এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৬৯০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৪২৮ জন।
এদিকে আক্রান্তের তালিকায় রাশিয়া ষষ্ঠ, যুক্তরাজ্য সপ্তম, ইতালি অষ্টম, আর্জেন্টিনা নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের অবস্থান ৩২তম।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।