এনডিসি দল বেনাপোল

সারাদেশ

বেলাল আহমেদ চৌধুরী : বছরের বৃহত্তম ফোরাম হলো বেনপোলে। আলোকিতজনের বড় ফোরাম। আমাদের জন্য বড় শিক্ষণের সুযোগও। বড় বিদ্যাপীঠের দেশী-বিদেশী বড় শিক্ষার্থীর

পদচারণায় আলোকিত বেনাপোল। অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ৪ মার্চ বেনাপোল কাস্টম হাউসে এনডিসির ২৩ সদস্যের প্রশিক্ষণ দলের আগমন।

দশজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ ২৩ জন দেশী-বিদেশী সামরিক অসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তার সমন্বিত দল। এক কথায় তাঁরা এলেন, দেখলেন, জানলেন, জানালেন, শেখালেন, আমাদের ভাবালেন। শিক্ষণের উদ্ভাবনী অনুষঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ত ও কৃতার্থ করলেন। দৃষ্টান্তে মহত্ব রেখে গেলেন। আমরা ঋদ্ধ, সম্মানিত, গর্বিত!

কাস্টমস যুক্ত করে, সীমান্ত বিযুক্ত করে (Border divides, Customs connect) মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশসেবায় নিবেদিত বাংলাদেশ কাস্টমস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের বাণিজ্য ও যাত্রী সেবায় ২৪/৭ নিয়োজিত বেনাপোল কাস্টম হাউস। এভাবে পরিচিতির সূচনা হয় কাস্টমস ও এনডিসি দলের।

মূলত, অভ্যন্তরীণ শিক্ষা সফরে তাঁদের বেনাপোল কাস্টম হাউসে আগমন। শুরুতেই কমিশনার ও তাঁর দল পুস্পিত শুভেচ্ছা ও সম্ভাষণে অতিথিগণকে স্বাগত জানান।

প্রায় দেড় ঘন্টার নিবিড় কর্মশালা। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটো অডিও ভিজুয়াল প্রদর্শনীসহ অনুষ্ঠিত হয় সফল কার্যকর মতবিনিময় অধিবেশন। সুপরিমিত, সমৃদ্ধ, সুশৃঙ্খল দলটির প্রতি আমাদের অপার কৃতজ্ঞতা। এমন সফল ও সুন্দর অনুষ্ঠানের আয়োজক, সহায়ক ও সম্পৃক্তদের ধন্যবাদ।

দেশের গর্বের সামরিক বিদ্যাপীঠ এনডিসি (ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ)। নিরাপত্তা, স্ট্রাটেজি ও ডেভেলপমেন্ট অধ্যয়নে বিশ্বব্যাপী স্বনামখ্যাত দেশের গর্বের এ প্রতিষ্ঠান। মিলিটারি ও সিভিল নির্বাচিত বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত।

সহকারী কমিশনার নুরুল বাসিরের উপস্থাপনায় পরিচিতি পর্বের পর ডেপুটি কমিশনার শাকিলা পারভীন বেনাপোল কাস্টম হাউসের সামগ্রিক কার্যক্রম ও রাজস্ব আহরণে ভুমিকার উপর একটি মনোজ্ঞ পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন। স্থলবন্দর কর্তপক্ষ থেকে ডিডি সঞ্জয় আরেকটি উপস্থাপনা দেন। অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসাইন অতিথিবৃন্দের অনুসন্ধিতসার জবাব দেন।

দেশের দ্বিতীয় বৃহওম এ কাস্টম হাউস। অপ্রতুল মানবসম্পদ নিয়ে বছরে ৫০০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যোগান দিচ্ছে জেনে অতিথিবৃন্দ সবিস্ময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন।

মেজর জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ, এনডিইউ, পিএসসির নেতৃত্বে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, মালোয়েশিয়া, সৌদিআরব, ওমান ও নাইজেরিয়ার সামরিক অসামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।

মেজর জেনারেল আহমেদ ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ আর্মির ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে কমিশন লাভ করেন। প্রশাসন ও প্রশিক্ষণে যাঁর পেশাদারিত্ব ও খ্যাতি। মে ২০১২ এ বর্তমান পদে পদোন্নতির পর মর্যাদাপূর্ণ ১৯ পদাতিক বিভাগের জিওসির দায়িত্ব পালন করেন। বিআইআইএসএস এর মহাপরিচালকে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে বিদেশে বহু প্রশিক্ষণসহ ঢাকাবিশ্ববদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। খুব শিঘ্রই তিনি বিইউপি থেকে ডক্টরাল গবেষণার উপর পিএইচডি লাভের পথে।

বেনাপোলে আমাদের বড় অংশীজন বিজিবি। এই মহতি সমাগমে উপস্থিত দুই সময়ের যশোরের দুজন আঞ্চলিক অধিনায়ক। প্রাক্তন আঞ্চলিক অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজি তওফিকুল ইসলাম বিএসসি ও বর্তমানে তাঁর পদে আসীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ আল মামুন।

তাওফিক ভাইকে অল্প কিছুদিন অধিক্ষেত্রে পেয়েছি। প্রথম দেখায় সমীহ জাগানিয়াদের একজন। একজন নিখাদ দেশপ্রেমী ও তেজস্বী কর্মকর্তা। আন্ত:সংস্থা বন্ধুত্ব ও যোগাযোগ, বেনপোল বন্দরের উন্নয়ন, চোরচালান দমন, স্ক্যানার স্থাপন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে তাঁর লক্ষ্যধর্মী সফলতা ও অবদান বেনাপোলবাসী মনে রাখবে।

মামুন ভাই সম্প্রতি যোগদান করে সংস্কার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজের ব্যতিক্রমিতা মেলে ধরেছেন। সীমান্তে হত্যা, চোরচালান, মুদ্রাপাচার ও মানব পাচাররোধে প্রতিরোধ ঘোষণা দিয়েছেন।

ইতোমধ্য দৃশ্যমান বেশকিছু সাফল্যও এসেছে। একজন সফল সংগঠক ও কর্মপ্রবণ কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক আইসিপি সংস্কারে তিনি ও তাঁর সিও আরিফুল হকের সময়ানুগ ও কার্যকর সমর্থন পেয়েছি।

সফল ও কর্মপ্রসূ একটি অনুষ্ঠান শেষ করে অতিথিবৃন্দ বেনাপোল পেট্রোপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত retreat parade ceremony উপভোগ করে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন ।

বড় প্রতিষ্ঠানের বড় প্রতিনিধিরা প্রস্থান করলেন। বড় আবহে, বড় শিক্ষণে, বড়ত্বে মুগ্ধতা রেখে গেলেন! মধ্যহ্নভোজ আয়োজনের ইচ্ছে থাকলেও দলনেতা ‘পরে’ বললেন। অপেক্ষায় থাকলাম। আবার দেখা হবে, কথা হবে এনডিসি দল। প্রত্যেকের জন্য শুভকামনা