
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে বীরত্ব, স্বাধীনতার পর নবীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে অসামান্য অবদান আর শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শাহাদাত—এক বীর বৈমানিকের এমন গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাবিধুর অধ্যায় স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, বীর উত্তম এবং স্কোয়াড্রন লীডার মফিজুল হক-এর ৫০তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পালন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
মহান মুক্তিযুদ্ধে এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার ৬ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য বাহিনীটি এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে আসছে।

১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর। স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছর পরই জাতি হারায় তার এই সাহসী বৈমানিককে। এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শাহাদাত বরণ করেন এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার। একই দুর্ঘটনায় শাহাদাত বরণ করেন স্কোয়াড্রন লীডার মফিজুল হকও।

একই দিনে দুই সাহসী বৈমানিকের বিদায় : পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাসে আজও গভীরভাবে স্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে স্বাধীন দেশের বিমান বাহিনীকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর কাজে যাঁরা অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে খাদেমুল বাশারের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সকল ঘাঁটি ও ইউনিটের কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজন করা হয় বিশেষ দোয়া মাহফিল। এতে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিমানসেনা এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা, স্মরণ ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের দুই বীর সহকর্মীর আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারে মরহুমদের কবরে ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরত্বের এক উজ্জ্বল অধ্যায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্মারক হয়ে আছেন এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, বীর উত্তম। তাঁর সঙ্গে একই দুর্ঘটনায় শাহাদাত বরণকারী স্কোয়াড্রন লীডার মফিজুল হকের আত্মত্যাগও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
পঞ্চাশ বছর পরও তাঁদের স্মৃতি যেন আকাশে ওড়ার সাহসেরই প্রতীক—দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা দুই বৈমানিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ হলো ৫০তম শাহাদাত বার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা। (তথ্য সুত্র ও ছবি : আই.এস.পি.আর.)
