শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের আকস্মিক উপস্থিতি, উদ্বেগ কর্মকর্তাদের

Uncategorized আইন ও আদালত কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  হঠাৎ করে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) বেলা ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনে প্রবেশ করেন।


বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করেন। পরে চারজনের একটি ছোট দল নিয়ে মির্জা আব্বাস ভেতরে ঢোকেন। তবে তার সঙ্গে আসা নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ গভর্নর ভবনের মূল ফটক, সোনালী গেটের সামনে অবস্থান নেয়। ভেতরে প্রবেশের পর মির্জা আব্বাস প্রথমে গভর্নর ভবনের তৃতীয় তলায় কিছু সময় অবস্থান করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা প্রশাসনিক ভবনে যান। এ সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও দেখা যায়।

তিনি কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি জানান, এটি ছিল “নিয়মিত ব্যাংকসংক্রান্ত কাজ”।


বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআইভুক্ত (Key Point Installation) গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে এভাবে দলবল নিয়ে প্রবেশের ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।”


বিজ্ঞাপন

আরেক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত কিংবা ব্যাংকসংক্রান্ত প্রয়োজনে যে কেউ আসতে পারেন। অতীতেও অনেক রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এসেছেন। তবে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে প্রবেশ করাটা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন,
“তিনি কেন এসেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। তবে প্রয়োজনে যে কেউই বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে পারেন। কিন্তু এভাবে অনেক লোক নিয়ে আসাটা ঠিক হয়নি।”

প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। তিনি এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং একসময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন হলে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

পরবর্তীতে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের সম্পদের তালিকায় রয়েছে ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার।

এছাড়া ৩০ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতুর মালিকানাও উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করলেও ব্যবসা থেকে কোনো আয় দেখানো হয়নি। বরং তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বাড়িভাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের সুদ। তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এভাবে রাজনৈতিক নেতার বিপুলসংখ্যক অনুসারী নিয়ে উপস্থিতি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

👁️ 119 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *