
হাবিব সরকার স্বাধীন : একের পর এক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বনানী থানা বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এছাড়া তাঁদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে বিএনপির অবহেলিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা। এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, বিএনপি নেতারা যদি আওয়ামী লীগের লোকজনদের পুনর্বাসনই করবে তাহলে হাসিনার পতন ঘটানোর প্রয়োজন ছিল কী? তাহলে ঘুরে ফিরে হিসেব নিকেশ একটাই হচ্ছে, শুধু ক্যাশিয়ারের পরিবর্তন।
অভিযোগ এসেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও বনানী থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাকর্মী ছাড়াও মাদক কারবারিসহ সন্ত্রাসীদের আনাগোনা লক্ষনীয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরাবরের মতো রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় মহাখালী এলাকায় তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা মিছিলে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বহর ছিল বলা যায়। বিশেষ করে বনানীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ফর্মা শহীদ এবং শ্রমিক লীগ নেতা সানোয়ারকে মিছিলে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দুজনই অতীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

ফর্মা শহীদ গোডাউন বস্তির একজন পরিচিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি যুবলীগ নেতা ছিলেন এবং বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেলের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে সানোয়ার ছিলেন শ্রমিক লীগ নেতা এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুনায়েদ মনিরের ক্যাশিয়ার হিসেবে চাঁদা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানা গেছে।
বনানী থানা বিএনপির এক কর্মী বলেন, “শহীদ বা সানোয়াররা মিছিলে পোলাপান দিতে পারেন বলে আজাদ তাদের পুনর্বাসন করেছে। এবং আজাদের ছায়ায় তাঁরা বস্তিতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছে।”
এদিকে আরেকজন বনানী থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ২০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ নাছিরের চাঁদাবাজির ক্যাশিয়ার খ্যাত সবুজ নামক আওয়ামী লীগের আরেক সন্ত্রাসী বর্তমানে আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিভিন্ন সভা, মিটিং-মিছিলে আজাদের সঙ্গে সবুজকে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বর্তমানে আজাদের অন্যতম সহযোগী ‘জ’ ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অভিযুক্ত সবুজ। এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্চু কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন- আওয়ামী লীগের লোকজন দলে ভিড়ালে সমস্যা নেই। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কোনোভাবেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করা যাবে না।
এসব বিষয়ে বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ইমান হোসেন নূর বলেন, “বিএনপি’র কিছু সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এখন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে গত ১৭ বছর রাজপথে থাকা ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের তথ্য নিচ্ছে যা দুঃখ ও লজ্জা’জনক ব্যাপার।”
