গোপালগঞ্জে সরকারি স্কুলের শৌচাগার ‘গুঁড়িয়ে’ দিলেন প্রভাবশালীরা

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি (গোপালগঞ্জ) :  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতৈল ইউনিয়নে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন শৌচাগার ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কোনো ধরনের টেন্ডার বা নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ৮নং কেকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ যা বলছে স্থানীয়রা  :  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুকতৈল ইউনিয়নের চরতালা গ্রামের বাসিন্দা টিকলু শিকদার নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুরাতন শৌচাগারটি ভেঙে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো প্রশাসনিক তদারকি বা লিখিত অনুমতি ছাড়াই দিনদুপুরে সরকারি সম্পদটি ধ্বংস করা হয়।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, এটি যেহেতু সরকারি সম্পত্তি—তাই সেটি পরিত্যক্ত হলেও নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।


বিজ্ঞাপন

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি জিনিস ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ভেঙে ফেলা যায় না। তাহলে আইন-কানুন আছে কেন?”


বিজ্ঞাপন

অভিযুক্তের বক্তব্য  : অভিযুক্ত টিকলু শিকদার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, শৌচাগারটি তার ব্যক্তিগত জমির সীমানার মধ্যে পড়েছিল। তার ভাষ্য, “এটা আমার জায়গায় ছিল, তাই ভেঙে ফেলেছি।”

তবে সরকারি স্থাপনা অপসারণে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের লিখিত অনুমতির কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এতে পুরো বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ধোঁয়াশা ঘটনাটিকে ঘিরে সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা আক্তার স্বীকার করেন, শৌচাগার ভাঙার কোনো লিখিত অনুমতি ছিল না। তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণের পর এটি টিকলু শিকদারের জায়গায় পড়ায় ভাঙা হয়েছে। তবে কেন তিনি সরকারি সম্পদ রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেননি—সে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি।

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জামাল হোসেন গাজী দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক তাকে ফোনে বিষয়টি জানান এবং ভাঙা ইট রাস্তা নির্মাণে ব্যবহারের কথা বলেন। তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করলে মৌখিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান।

কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র বালা সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” তিনি আরও বলেন, আইন বহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা :  সরকারি সম্পদ রক্ষা, নিলাম প্রক্রিয়া, লিখিত অনুমতি—সবকিছু উপেক্ষা করে একটি স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত,  দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা, বিদ্যালয়ের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, যদি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ দখল বা ধ্বংসের প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *