
মো: হাবিবুর রহমান, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন এর জাঙ্গাল এলাকায় এক এতিম পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মোছাঃ শায়েরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ শায়েরা খাতুনের স্বামী মোঃ হাসেম মীর এর মালিকানাধীন জমি তার মৃত্যুর পর থেকে তার ভাই মোঃ আবুল কাশেম মীর জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জমি বুঝিয়ে দিতে বললে শায়েরা খাতুন ও তার চার এতিম মেয়েকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখিত জমির মধ্যে মনিয়ন্দ মৌজার জে.এল. নং ১৭ এর অধীনে জমির ১নং তফসিল: মৌজা: মনিয়ন্দ, জে.এল.নং ১৭, খতিয়ান নং-২০২৬-১০০০৩০, দাগ নং-৭১৭৯, ৭১৮১, ৭১৮৩, ৭১৭৮, ৭১৮০ দাগে জমির মোট পরিমাণ ১ একর ৩ শতক ৫০ অজুতাংশ।

২নং তফসিল: মৌজা: মনিয়ন্দ, জে.এল.নং ১৭, খতিয়ান নং-২০২৬-১০০০৬৩, দাগ নং-৭১৮৪, ৭১৮২, ৭১১৭, ৭১২১, ৭১২৩, ৭১২৪, ৩৪০, ৭১২৫ দাগে জমির মোট পরিমাণ ১ একর ২৪ শতক ৫০ অজুতাংশ সহ একাধিক দাগে প্রায় ২ একর ২৭ শতক জমি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উক্ত জমির প্রকৃত মালিক দুই ভাই কাশেম মীর ও হাসেম মীর হলেও বর্তমানে কাশেম মীর জোরপূর্বক সম্পূর্ণ জমি দখলে রেখেছেন এবং হাসেম মীর এর স্ত্রী ও মেয়েদের তাদের অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।
এছাড়া বিভিন্ন মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অসহায় এতিম পরিবারটির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান-এর সহযোগিতাও কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি (কাশেম মেম্বার) বলেন, “আমরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো সিদ্ধান্ত মানছেন না। এতিম পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
অভিযুক্ত মোঃ কাশেম মীর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করব। এলাকাবাসীর কোনো সিদ্ধান্ত আমি মানি না।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।মোঃ হাবিবুর রহমান।
