
মোঃ শাহাবুদ্দিন, (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিয়ত সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ: * ভয়ভীতি প্রদর্শন: কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি পেলেই মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে সেই কাগজপত্রই আবার ‘বৈধ’ বলে গণ্য হয়।
টোকেন সিস্টেম: স্থানীয়দের অভিযোগ, সিএনজি, ড্রাম ট্রাক, ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে ‘টোকেন’ দিয়ে মাসোহারা আদায়ের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট টাকা না দিলে গাড়ি আটকে মামলা দেওয়ার পাশাপাশি অশোভন আচরণের শিকার হতে হয় চালকদের।

প্রবাসীকে হয়রানি: সম্প্রতি আবছার নামে এক প্রবাসীর গাড়ি আটকিয়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি তার সাথে পুলিশ সদস্যরা দুর্ব্যবহার ও শারীরিক হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যানজট নিরসনে অনীহা: স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাইওয়ে পুলিশ চাঁদাবাজিতে যতটা সক্রিয়, জনগুরুত্বপূর্ণ ঝংকার মোড় ও বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র যানজট নিরসনে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. সাহাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার অসুস্থতার কথা জানানো হয়। তবে তিনি পরবর্তীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নিয়ম মেনেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান জানান, তার কাছে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সচেতন মহলের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন প্রয়োগ জরুরি হলেও পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
