বহিষ্কার কেবলই ‘লোক দেখানো’? বহাল তবিয়তে বনানী যুবদল নেতা মনির ! 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ‘হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল’-এ তণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বনানী থানা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মনির হোসেন এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠের রাজনীতিতে তার দাপট কমেনি এতটুকুও। বরং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং নিজেকে ‘আহ্বায়ক’ দাবি করে পোস্টার-ব্যানার সাঁটানোয় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এই বহিষ্কার কি তবে শুধুই লোক দেখানো?


বিজ্ঞাপন

সালের জুলাই মাসে মহাখালীর হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ভিআইপি রুম না পাওয়া এবং বিলের ডিসকাউন্ট নিয়ে তর্কের জেরে মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার এই তাণ্ডব চালায়। এ সময় হোটেলটিতে লুটপাটও চালানো হয়। এই ঘটনায় মনিরকে প্রধান আসামি করে বনানী থানায় মামলা করা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে আজ অবধি গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা একটি বিবৃতি দিয়ে মনির হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বহিষ্কৃত হওয়ার পরও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের প্রায় সব কর্মসূচিতে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে মনিরকে। সম্প্রতি বনানী ও মহাখালী এলাকায় তার নামে অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে, যেখানে তিনি নিজেকে এখনো ‘আহ্বায়ক, বনানী থানা যুবদল’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বে আগের চেয়েও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।।


বিজ্ঞাপন

বিষয়ে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:, সংগঠন বিরোধী ও বিশৃঙ্খলামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মনির হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কৃত কেউ দলের নাম ব্যবহার করলে সেটা অবৈধ। যদি তিনি এখনো দলের নাম ব্যবহার করে ব্যানার দেন বা কর্মসূচিতে আসেন, তবে আমরা কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। যুবদলে অপরাধীর কোনো স্থান নেই।”


বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সেদিনের ঘটনাটি ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি। আমি দলের নিবেদিত প্রাণ কর্মী, তাই আবেগের জায়গা থেকে কর্মসূচিতে যাই। আর ব্যানারগুলো আমার কর্মীরা অতি উৎসাহী হয়ে করেছে। আমি এখনো নিজেকে দলের অনুগত মনে করি।”

মহাখালী এলাকার বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট রাইহান আহমেদ বলেন, অপরাধ করার পর রাজনৈতিক দলগুলো শুধু লোক দেখানো বহিষ্কারের নাটক করে। যদি সত্যিই তাকে বহিষ্কার করা হতো, তবে সে দলের ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার সাহস পেত না। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং দলের নমনীয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।।

মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও মনির হোসেন গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার সাহস না পায়।।

👁️ 356 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *