
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পর এবার ইউরোপজুড়ে বিএনপির সর্বস্তরের নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ১৩ বছর ধরে নানা জটিলতা ও নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কমিটি না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সেশনজট, যার ফলে একেকটি পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। এর পাশাপাশি গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও দিন দিন তীব্রতর হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে এবার বাস্তবভিত্তিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেছেন—তাদেরকেই নেতৃত্বে আনার দাবি উঠছে জোরালোভাবে।
একাধিক নেতাকর্মীর মতে, “যারা কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন, জান ও মাল দিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করেই নতুন কমিটি গঠন করা উচিত। এতে দল শক্তিশালী হবে, তৃণমূলের আস্থা ফিরবে।”

তবে কমিটি গঠনকে ঘিরে সম্ভাব্য বিতর্ক নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। দীর্ঘদিনের সেশনজটের কারণে প্রত্যাশা বেড়েছে চরমে। ফলে কেউ পদ না পেলে অভিযোগ তুলতে পারেন—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। এক নেতা মন্তব্য করেন, “এখন এমন অবস্থা হয়েছে, আল্লাহর ফেরেশতা এসে কমিটি দিলেও কেউ না কেউ বলবে—টাকা খেয়ে কমিটি হয়েছে। এটা যেন এক ধরনের ‘ভাঙা রেডিও’র মত হয়ে গেছে।”

এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—তারা যেন নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত পরিশ্রমী, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কমিটি ঘোষণা করেন। এতে করে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে এবং সংগঠন নতুন গতিতে এগোবে বলে আশা করছেন সবাই।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে ফ্রান্স বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। একই সঙ্গে ইউরোপের আসন্ন কমিটি নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা।
