এনবিআর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে ঘিরে ‘মব হামলা’র অভিযোগ !  সাক্ষাৎকারের সময় চাওয়াকে কেন্দ্র করে কর অঞ্চলে উত্তেজনা, এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দাবি! 

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত এক সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে ঘিরে মব সৃষ্টি, হেনস্থা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনবিআর অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে দৈনিক অর্থনীতির কাগজ কর্তৃপক্ষ।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) দৈনিক অর্থনীতির কাগজ পত্রিকার সিটি রিপোর্টার নিজামুদ্দিন তার সিনিয়র রিপোর্টারের নির্দেশে কর অঞ্চল-২২ এর সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে ঢোকার আগে তিনি অনুমতিও নেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নিজামুদ্দিন তার সিনিয়র রিপোর্টারের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের সিডিউল চাওয়ার কথা বললে সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি উপকর কমিশনার শাহিনুল ইসলামকে ফোন দেন এবং পরে চার থেকে পাঁচজন সহকর্মীকে নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক ধরনের “মব পরিস্থিতি” তৈরি করা হয়।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় সাংবাদিক নিজামুদ্দিনকে হেনস্থা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে উপকর কমিশনার শাহিনুল ইসলাম একটি ভিডিও ধারণ করে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন— “আপনার ১৪ বছরের জেল হবে, এখানে আর কখনো আসবেন না।” এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর নিজামুদ্দিন বিষয়টি তার অফিসকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে এনবিআর চেয়ারম্যান, কর অঞ্চল-২২ এর কমিশনার নজরুল আলম চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিক নিজামুদ্দিন বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।

আমি যদি কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক কাজ করে থাকি, তাহলে সেটি সিসিটিভির ফুটেজে থাকার কথা। অথচ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে মব সৃষ্টি করে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,  “গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সেখানে একটি সরকারি দপ্তরে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারাও।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, “সাংবাদিকরা পেশাগত প্রয়োজনে যেকোনো সরকারি দপ্তরে যেতে পারেন। কোনো কর্মকর্তা তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকের সঙ্গে অশোভন আচরণ বা হেনস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, “তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক মিডিয়াকর্মীর রয়েছে। দৈনিক অর্থনীতির কাগজের সিটি রিপোর্টার নিজামুদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, “সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলা কিংবা অশোভন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি আইনগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।”

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, “অতীতে রাজস্ব বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এসেছে বলে আমার জানা নেই। রাজস্ব বোর্ডকে আরও সচেতন হতে হবে এবং কর্মকর্তাদের মিডিয়াবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন নজর এনবিআর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে— অভিযোগের তদন্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

👁️ 21 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *