
আরমান হোসেন রাজু, (রংপুর) : পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর আসামীদের মানসিক ও সামাজিক চাপে বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই কিশোরী।

নিহত শিক্ষার্থী স্থানীয় শালমারা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে যাতায়াতের সময় ভিতরগড় ঝেচুপাড়া এলাকার মো. সোহেল (২৫) নামে এক যুবক তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে উত্ত্যক্ত, কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল ও তার সঙ্গীরা কৌশলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নির্জন এক বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। তবে আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও প্রচণ্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ১২ সেপ্টেম্বর সকালে নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করে ওই কিশোরী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রোববার রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল (২৫) ও তার সহযোগী মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টুকে (২৩) গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞাপন
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই পাশবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি ও সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে না হয়।
ঘটনার বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
