ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে ৩৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

আরমান হোসেন রাজু (রংপুর)  :  ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে  স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রদান করা মিড ডে মিলের ইউএইচটি দুধ খেয়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৩৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

​আজ সোমবার দুপুর থেকে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ড. মো. আহাদুজ্জামান।

​হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকে পেটে ব্যথা ও তীব্র বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং সে অনুযায়ী তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসা শেষে এরই মধ্যে ২২ জন শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আরও চারজনের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় দ্রুত তাদেরও ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে বাকি নয় শিক্ষার্থীকে বর্তমানে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

​উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকার ঘোষিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি সোমবার শিক্ষার্থীদের বনরুটি এবং ২০০ মিলিলিটারের ইউএইচটি (আলট্রা হাই টেম্পারেচার) প্রসেস করা প্যাকেটজাত দুধ পরিবেশন করা হয়।


বিজ্ঞাপন

​ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানা যায়, আজ দুপুরে মিড ডে মিলের দুধ খাওয়ার পরপরই মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম অসুস্থবোধ করতে থাকে। পরিস্থিতি বিগড়ে গেলে ওই বিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থীকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

প্রায় একই সময়ে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও ৩ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। পরবর্তীতে বিকেলে আরও ৪ জন শিক্ষার্থীকে একই কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

​মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, ইউএইচটি দুধটি খাওয়ার পরেই তার পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু হয়। প্যাকেটের দুধটির স্বাদ কিছুটা তেতো মনে হওয়ায় বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জানালেও তারা গ্রাহ্য না করে পুরো দুধটুকু খেয়ে নিতে বলেন।

​এ বিষয়ে মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি জানান, পরিবেশন করা দুধটি প্রক্রিয়াজাত ও সম্পূর্ণ প্যাকেটজাত থাকায় এটি ভেতরে নষ্ট কি না, তা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয়নি।

​উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউএইচটি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা এই প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে থাকে।

​ঘটনার বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, “মিড ডে মিলে সরবরাহ করা খাবারের নমুনা আমরা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছি। খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য এগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।”

​অন্যদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া আমান দাবি করেন, “আমরা সরকারি স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩৮টি বিদ্যালয়ে দুধ সরবরাহ করছি।

ইতিপূর্বে আমাদের দুধের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ ওঠেনি। খালি পেটে এ ধরণের দুধ খেলে অনেকের বমি বমি ভাব হতে পারে। আজ হয়তো কোনো শিক্ষার্থী খালি পেটে দুধ খাওয়ার পর বমি করেছে এবং তা দেখে আতঙ্কে অন্য শিক্ষার্থীরাও অসুস্থ বোধ করেছে।”

👁️ 363 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *