শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ: সহকারী প্রকৌশলী সরোয়ারকে ঘিরে তোলপাড় !  

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ৷  #  সহকারী প্রকৌশলী সরোয়ারকে ঘিরে তোলপাড়   #  বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটিতে নাম, কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন   #  একই কমিটির অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বহাল থাকার অভিযোগ—তদন্তের আশ্বাস প্রধান প্রকৌশলীর   #  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা   # 


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁর নাম থাকা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে তাঁর পরিচয় এবং সাবেক মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন সরোয়ার হোসেন। এ ছাড়া সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


বিজ্ঞাপন

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। একই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার নথি যাচাই এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২২ সালের কমিটিতে সরোয়ারের নাম, নথিতে মিলেছে পরিচয়
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির তালিকার ১৪ নম্বর সদস্য হিসেবে প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনের নাম রয়েছে। সেখানে তাঁর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে ‘ঢাকা মেট্রোর সহকারী প্রকৌশলী’ হিসেবে।

কমিটি অনুমোদনের নথিতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরোয়ার হোসেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোতে যোগ দেন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শাখা কমিটি গঠনের সময় তিনি ওই কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তার কোনো রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট নথি, সংগঠনের প্রকৃতি, কর্মকর্তার ভূমিকা এবং প্রযোজ্য সরকারি চাকরিবিধি পর্যালোচনা করা জরুরি। শুধু কোনো কমিটিতে নাম থাকা থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধিভঙ্গ প্রমাণিত হয় না; তবে সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে।

সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় যাচাই করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাঁদের প্রশ্ন, একই কমিটির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তাঁর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি কোন পর্যায়ে রয়েছে?

কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পরিচয়, রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা  :  সরোয়ার হোসেন কুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সরোয়ার হোসেনের ছবি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে ছবি থাকা বা কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পরিচয় থাকার বিষয়টি এককভাবে অনিয়ম কিংবা অপরাধের প্রমাণ নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিয়েও জনপরিসরে প্রশ্ন উঠছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমন ও গুলিবর্ষণসংক্রান্ত অভিযোগে মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে সরোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আলাদাভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতায় উসকানি দেওয়া ও অর্থ দিয়ে সহায়তার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, সেটির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা মেট্রোর ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ  : সরোয়ার হোসেন ঢাকা মেট্রোতে যোগ দেওয়ার সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাসান শওকত। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন কাজ, প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি হাসান শওকতের অফিসকক্ষে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। ভিডিওটি ঘিরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও ওঠে। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

এদিকে, হাসান শওকতের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সরোয়ার হোসেনের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন ঠিকাদারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। এ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কোন প্রকল্পে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়ায়

তাঁর কোনো প্রভাব ছিল কি না এবং বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রকল্পের নথি, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, অনুমোদনসংক্রান্ত রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা জরুরি। তাতেই অভিযোগের সত্যতা ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

একই কমিটির অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সরোয়ারের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ ? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা, দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরেও অতীতের সাংগঠনিক ভূমিকা ও বর্তমান পদায়ন পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার

একই আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোন বিধির আওতায় নেওয়া হয়েছে এবং সরোয়ার হোসেনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কর্মকর্তাদের একাংশের প্রশ্ন, একই কমিটির সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পার্থক্য থাকলে তার কারণ কী? অভিযোগের ধরন, প্রমাণ ও প্রযোজ্য বিধি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার করা দরকার।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পাশাপাশি ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে। দুটি বিষয়কে এক করে না দেখে পৃথকভাবে যাচাই করাই হবে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপযুক্ত পদ্ধতি।

সরকারি নথি ফাঁসের আশঙ্কা, উদ্বেগ কর্মকর্তাদের  :  সরোয়ার হোসেনের ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা নিয়ে অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাঁদের আশঙ্কা, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর যথাযথ পর্যালোচনা না হলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

তবে সরকারি তথ্য ফাঁসের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, নথি বা প্রমাণের বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা, নথি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথির প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল রেকর্ড, দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং তথ্য ব্যবহারের লগ পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী ধরে নেওয়া যেমন সমীচীন নয়, তেমনি গুরুতর অভিযোগ উপেক্ষা করাও দায়িত্বশীল প্রশাসনের কাজ হতে পারে না। অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাস: তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
সরোয়ার হোসেনের ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের কার্যক্রম কবে শুরু হবে এবং এর পরিধি কতটুকু হবে। তবে তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা  :  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি জরুরি। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের কাছে কয়েকটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

প্রথমত, ২০২২ সালের বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে সরোয়ার হোসেনের অন্তর্ভুক্তির নথি যাচাই করে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ও প্রযোজ্য চাকরিবিধির আলোকে পর্যালোচনা করা।

দ্বিতীয়ত, ঢাকা মেট্রোর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা।

তৃতীয়ত, একই কমিটির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও সরোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
চতুর্থত, সরকারি নথি ফাঁসের আশঙ্কা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ থাকলে তা যাচাই করে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পঞ্চমত, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন ও সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও পরিষ্কার করা।
আশ্বাসের বাস্তবায়নই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, সহকারী প্রকৌশলী মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের কমিটির নথিতে তাঁর নাম থাকার বিষয়টি যাচাইযোগ্য তথ্য হলেও ঠিকাদারি কাজে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহিংসতায় সহায়তা কিংবা সরকারি নথি ফাঁসের আশঙ্কাসংক্রান্ত অভিযোগগুলো প্রমাণসাপেক্ষ।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয় কি না, অভিযোগগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপে বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচিত হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

👁️ 197 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *