
মো হাবিবুর রহমান, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : বিদ্যালয়ের সিলেবাসের বাইরে সাহিত্য ও নৈতিক শিক্ষাবিষয়কসহ বিভিন্ন বই পড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী। দুই মাসের মধ্যে চার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাছাই করা বিভিন্ন বই পড়ে।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেসকনফারেন্সে এসব বিষয় জানান জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ। ৩১ অক্টোবর বই পড়া শিক্ষার্থীদেরকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে বুধবার বই পড়ায় বাছাই হওয়া ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান চর্চার প্রসার,নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশ ও সৃজনশীল চিন্তার চর্চাকে উৎসাহিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলাব্যাপী বইপড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেসকনফারেন্সে লিখিত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, মননশীল ও আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। জেলার চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

পরবর্তী ধাপে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। বিভিন্ন ধাপের প্রতিযোগিতা ও বাছাই শেষে বর্তমানে জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ১৩৫ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, গত ৪ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বইপড়া কর্মসূচির’ উদ্বোধন করা হয়। বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় বাংলা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, শিশু-কিশোর সাহিত্য ও নৈতিক শিক্ষাবিষয়ক নির্বাচিত বইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রেসকনফারেন্সে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু তালেব, সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা, আইসিটি শাখা) মো. শরীফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম ও জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খানসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বই পড়া কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পঠিত বিষয়ের জ্ঞান, অনুধাবন, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। জেলা পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগ থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বই, ক্রেস্ট ও অন্যান্য স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হবে।’ এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার স্থায়ী অভ্যাস গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, আয়োজনের চুড়ান্ত প্রতিযোগিতাট পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
