শাহরাস্তিতে ক্লাস না নেওয়া ও অনুপস্থিতির অভিযোগে ৪ শিক্ষককে শোকজ  : ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ; তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : , শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত সময়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বঞ্চিত করা এবং বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।


বিজ্ঞাপন

গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

নোটিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম, প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দ, সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তার এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহান।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালে পাঠদান না করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়।


বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সহকারী মৌলভী মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে গত ১৯ অক্টোবর এবং সহকারী শিক্ষক মোছা. খুরশিদ জাহানের বিরুদ্ধে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ছুটি না নিয়ে বা পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক হাজেরা বেগম ও সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস আকন্দের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়ে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী বেতন কর্তনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হওয়াই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জবাব পর্যালোচনা এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত করা কিংবা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।”

তিনি আরও বলেন, জবাব পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীদের শেখার অধিকার, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ গঠনের প্রশ্ন।

তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য শোনা এবং বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হওয়া জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থাও অটুট রাখা সম্ভব হবে।

👁️ 35 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *