গণপূর্তে তোলপাড়: নির্বাহী প্রকৌশলী এ.আর.এম. তাওহীদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা  : চাকরিচ্যুতির মুখে কর্মকর্তা  !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নির্বাহী প্রকৌশলী এ.আর.এম. তাওহীদুর রহমান।নিজস্ব প্রতিবেদক  :  গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক আলোচিত বিভাগীয় আদেশকে ঘিরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ-১, প্রশাসন শাখা-১ থেকে জারি করা এক অভিযোগনামায় গণপূর্ত ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.আর.এম. তাওহীদুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর  :২৫.০০.০০০০.০৩৬.১২২.২৭.০০০৫.২৫-১২৯, তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ এর উপবিধি (খ) অনুসারে ০৬/২০২৬ নম্বর বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসহ কঠোর শাস্তিরও মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে  ?  অভিযোগনামা সূত্রে জানা গেছে, জনাব এ.আর.এম. তাওহীদুর রহমান গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে যোগদান করেন। পরে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ-২, ঢাকায় কর্মরত আছেন।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, তার অধীনস্থ কর্মকর্তা জনাব লিটন মল্লিক, প্রাক্তন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), গণপূর্ত ই/এম উপ-বিভাগ-১৫, মিরপুর, ঢাকা ২১ মে ২০২৩ থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তাওহীদুর রহমান নিজেই ১৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।


বিজ্ঞাপন

এরপর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ০৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখের স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ০১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে লিটন মল্লিকের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে।

কিন্তু চাঞ্চল্যকরভাবে, সেই মামলার কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায়ই নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুর রহমান ১৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে একটি স্মারকের মাধ্যমে লিটন মল্লিকের দীর্ঘমেয়াদি ছুটির আবেদন যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সুপারিশ করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে পাঠান। একই দিনে সেই ছুটি অনুমোদনও করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লিটন মল্লিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান থাকা এবং তার দাখিল করা মেডিকেল সনদ সন্তোষজনক না হওয়া সত্ত্বেও ২১ মে ২০২৩ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মোট ৪ মাস ২ দিনের অর্জিত ছুটি মঞ্জুরের সুপারিশ করা “সমীচীন হয়নি” এবং এটি সরকারি শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড।

অসদাচরণ’-এর অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা :  মন্ত্রণালয়ের অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তাওহীদুর রহমানের এ কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর শামিল। এজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগনামা পাওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে এবং কেন তার বিরুদ্ধে “চাকরি হতে বরখাস্তকরণ” বা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে চান কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর  :  এদিকে অভিযোগের অনুলিপি প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সেগুনবাগিচা, ঢাকার কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কোষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে তদন্ত সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কোষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গণপূর্তে নতুন আলোচনার জন্ম৷ :  গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলমান থাকার পরও তার ছুটির আবেদন সুপারিশ করা প্রশাসনিকভাবে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি— এ ঘটনায় শুধু একজন কর্মকর্তা নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। তদন্ত শেষে আরও বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।

👁️ 65 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *