
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে মামুন আলম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ভিত্তিহীন অভিযোগ পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই তার প্রধান নেশা ও পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলেই সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে চাঁদাবাজির ফাঁদ : অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামুন আলমের মূল কৌশল হলো বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত তথ্য সংগ্রহ করা। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন “আপত্তি” বা তথাকথিত “দুর্নীতির তথ্য” পাঠিয়ে ভয় দেখান। বিনিময়ে দাবি করেন বড় অঙ্কের অর্থ। যারা তার এই অনৈতিক দাবি মানতে অস্বীকার করেন, তাদের বিরুদ্ধেই তথাকথিত ‘নিউজ’ করার হুমকি দিয়ে হয়রানি শুরু করেন তিনি।
টার্গেটে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী : মামুন আলমের চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান, “মামুন আলম আমাকে মেসেঞ্জারে নক করে কিছু বানোয়াট তথ্য দিয়ে ভয় দেখান। তিনি সরাসরি বলেন, যদি এই নিউজ বন্ধ করতে চাই, তবে তাকে খুশি করতে হবে। তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেন।”

একইভাবে একাধিক ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, মামুন আলম তাদের ব্যবসার ত্রুটি খোঁজার নামে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। টাকা না দিলে তিনি সেগুলোকে বড় আকারে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ান।
সাংবাদিকতার আড়ালে অপরাধী চক্র :স্থানীয়দের মতে, মামুন আলম নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংবাদপত্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুট করা। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি দিনের পর দিন এই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অপকর্মের কারণে সাধারণ সাংবাদিক মহলেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, মামুনের মতো ব্যক্তির অপকর্মের দায়ভার পুরো সাংবাদিক সমাজ নিতে পারে না।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি : ভোক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মামুনের এই ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। হয়রানির শিকার অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে মুখ না খুললেও, এখন অনেকেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা অতিদ্রুত এই “নামধারী সাংবাদিকের” বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও চাঁদাবাজির মামলাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে মামুন আলমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
