৩ দিনের মাথায় লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন : পিবিআইয়ের অভিযানে গ্রেফতার ইয়াছিন

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অজ্ঞাতনামা যুবক হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

 

নিখোঁজের ফোনকল, তারপর নিথর দেহ  :  গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ০০:৪৩ মিনিটে ভিকটিম আবু রায়হান রিপন (৩৫)-এর মোবাইলে একটি ফোন আসে। রাত ০১:০০ ঘটিকার পর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।

পরদিন ১২ জানুয়ারি দুপুরে রিপনের বড় ভাই মোঃ লাল মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অজ্ঞাত লাশের ছবি দেখে সন্দেহ করেন। নিশ্চিত হওয়ার জন্য রূপগঞ্জ থানায় গেলে তিনি লাশটি তার ভাই রিপন বলে শনাক্ত করেন।


বিজ্ঞাপন

লাশের ডান হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল, ডান হাতের কব্জি ভাঙা, বাম পা কোমড় থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।


বিজ্ঞাপন

অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, পিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার  :  রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ১২ জানুয়ারি সকাল ৮টায় লাশ উদ্ধার করলেও পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হয়। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রাইম সিন টিম পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন।

পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় গঠিত আভিযানিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যার মূল সূত্র উদঘাটনে সক্ষম হয়।

রাতের অভিযানে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত :  ১৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯:৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন দেওয়ানবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আসামি মোঃ ইয়াছিন (২৭)-কে। তার পরিচয় : পিতা – মোঃ আবু ছালেক
মাতা – মহিমা @ মহিলা খাতুন,  স্থায়ী ঠিকানা – গ্রাম খামার দেহুন্দা, থানা করিমগঞ্জ, জেলা কিশোরগঞ্জ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এলো হত্যার কারণ :  গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ভিকটিম রিপনের সঙ্গে ইয়াছিন ও তার সহযোগীদের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা গাজীপুরের বাসন এলাকায় রিপনের ভাড়া বাসা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে হত্যা করে।

পরবর্তীতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে রিপনের লাশ নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকার নিঝুম পল্লি রিসোর্ট চত্বরের দক্ষিণ পাশে, রূপগঞ্জ-কালীগঞ্জগামী হাইওয়ে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়।

সহযোগী আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত :  হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিনকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

👁️ 51 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *