
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া তার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন। আজ রোববার দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এবং প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি ভোটের লড়াইয়ে নামেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রচারণার শুরুতেই বেলা ১২টার দিকে সিপন ভূঁইয়া গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং এ অঞ্চলের আধ্যাত্মিক রাহবার আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর (র.) কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে যান।
তবে সমাধিসৌধের মূল গেট বন্ধ থাকায় তিনি ৩ নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে মোনাজাত ও জিয়ারত সম্পন্ন করেন। সেখান থেকেই তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া নিয়ে প্রচারণার জন্য স্থানীয়দের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সিপন ভূঁইয়া তার আবেগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন।

সেই ক্ষত থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার। তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হতে পারলে গোপালগঞ্জের মাটিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের আদলে একটি স্থাপনা তৈরি করবেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।
গোপালগঞ্জ-২ আসনকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে সিপন ভূঁইয়া বলেন, গোপালগঞ্জের মাটিতে একদিকে শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অন্যদিকে আছেন আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী।
তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তিনি তার প্রচারণা শুরু করেছেন। এলাকার উন্নয়ন এবং ঐতিহাসিক চেতনা সমুন্নত রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য বলে তিনি সংবাদিকদের জানান।
