১২ তারিখের নির্বাচন হেলাফেলার নয়—বিএনপি ক্ষমতায় না এলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দরিদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা : ভোটারদের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের আহ্বান আবদুস সালামের

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের জন্য নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন—এই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা না যায় এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ।


বিজ্ঞাপন

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে তারেক রহমানের পক্ষে গুলশান ১ নম্বর দক্ষিণ ডিএনসিসি পাকা মার্কেট ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে—বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে, নাকি দেশ পরিচালিত হবে অন্য কারও ইচ্ছায়।” তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ঠিক করার লড়াই।


বিজ্ঞাপন

অর্থনীতির করুণ চিত্র তুলে ধরলেন সালাম : বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। সাধারণ মানুষের হাতে টাকা নেই, বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না, বড় ব্যবসায়ীরাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বহু ব্যবসা ইতোমধ্যে তালা ঝুলিয়েছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাইলে ভোটারদের এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”


বিজ্ঞাপন

বিএনপির ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা : বিএনপির অবদান স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, ১৯৭২–৭৫ সালের ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং জনগণের ভোটে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু গত ১৭ বছরে দেশ আবার ধ্বংসের পথে ধাবিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিদেশি প্রভাব ও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ : আবদুস সালাম বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের সরকার গঠন ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে থেকে প্রভাবিত হয়েছে। আগস্টের অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লেও নির্বাচনকে ঘিরে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপির অপরাধ একটাই—এই দেশের জন্য রাজনীতি করা। বিএনপির কোনো বিদেশি অভিভাবক নেই।”

ভোটারদের প্রতি সরাসরি বার্তা :  ভোটারদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, যাকে ভোট দিলে জয় নিশ্চিত হবে, তাকেই ভোট দিতে হবে।” তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এবং প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিলে জনগণ সরাসরি নিজেদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

বিএনপির প্রতিশ্রুতি : বিএনপি ক্ষমতায় এলে— ব্যবসা হারানোদের ব্যবসা পুনরুদ্ধার, চাকরি হারানোদের কর্মসংস্থান, ব্যাংক ঋণের সহজ ব্যবস্থা, শিক্ষাবঞ্চিত সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব : বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, তিনি জনগণের নেত্রী বলেই আজও সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তারেক রহমানকে ভোট দিলে দেশের সমস্যা সমাধান হবে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন : এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, এম এ কাইয়ুম, ফারুক হোসেন ভূঁইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

👁️ 34 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *