এক যুগে লেখক তৌফিক সুলতান স্যারের‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন — শিক্ষার্থীদের পড়ার সংকট সমাধানে সময়োপযোগী এক উদ্যোগ

Uncategorized কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী শিক্ষাঙ্গন সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো—অনেক পড়াশোনা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া, পড়া বুঝলেও তা দীর্ঘদিন মনে না থাকা এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। এই বাস্তব সমস্যাগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপট থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ রচিত হয়েছে। আজ এক যুগে এই গুরুত্বপূর্ণ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
এইচ. কে. বিপুল স্মৃতি হাই স্কুল, দৌলতপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, কোচেরচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসাসহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইব্রেরিতে সংরক্ষণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন জনাব মন্জিল স্যার এবং বইয়ের রচয়িতা তৌফিক সুলতান স্যার। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির লেখক তৌফিক সুলতান স্যার একজন প্রভাষক, লেখক ও গবেষণামুখী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি নিজেকে কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা, মানসিক চাপ, পড়ার ভয় ও ব্যর্থতার হতাশার ভেতরে দাঁড়িয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বারবার লক্ষ্য করেছেন—অনেক শিক্ষার্থী ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করেও পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায়। আবার অনেকে বিষয় বুঝলেও মুখস্থ না থাকার কারণে ভালো ফল করতে পারে না। এই অভিজ্ঞতা তাকে ভাবিয়েছে এবং প্রশ্ন তুলেছে—সমস্যাটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের মেধায়, নাকি আমাদের পড়ার পদ্ধতিতেই মূল ত্রুটি লুকিয়ে আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তৌফিক সুলতান স্যার শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা-গবেষণা ও বাস্তব শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা একত্রে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পড়া বোঝা, মনে রাখা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে গভীর বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই শুধু পরীক্ষার জন্য পড়ে, ফলে পড়া হয় সাময়িক এবং পরীক্ষার পরই তা ভুলে যায়। আবার কেউ কেউ বিষয় গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করলেও সঠিক স্মৃতি সংরক্ষণ কৌশল না জানার কারণে পরীক্ষায় বা জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে সেই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারে না। এই দ্বন্দ্ব থেকেই ‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির মূল দর্শন গড়ে ওঠে—পড়া বুঝে মুখস্থ করতে হবে। অর্থাৎ বোঝা ও মুখস্থ—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই শেখা হয় স্থায়ী, কার্যকর ও অর্থবহ।
বইটিতে লেখক খুব সহজ ভাষায় পড়ার সঠিক কৌশল তুলে ধরেছেন। কীভাবে পড়লে পড়া দীর্ঘদিন মনে থাকে, কীভাবে অল্প পড়ে ভালো ফল করা যায়, কীভাবে পরীক্ষার ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়—এসব বিষয় বাস্তব উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে, যারা পড়েও ভুলে যায় বা পরীক্ষার হলে গিয়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়—এই বইটি তাদের জন্য একটি কার্যকর গাইড হিসেবে কাজ করবে। বইটিতে দেখানো হয়েছে, পড়াশোনা কখনোই কেবল মুখস্থনির্ভর হওয়া উচিত নয়; আবার শুধু বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও চলবে না। পড়াকে যদি আনন্দময় করা যায় এবং জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, তবে শেখা হয়ে ওঠে স্বতঃস্ফূর্ত ও দীর্ঘস্থায়ী।
‘জ্ঞানের জগৎ’ বইটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি শুধু পরীক্ষার ফলাফলকেন্দ্রিক নয়। বইটিতে স্মৃতির বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, নিয়মিত চর্চার গুরুত্ব, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মনোযোগ বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে ইসলামিক জ্ঞানদর্শনের আলোকে ইলমের গুরুত্ব ও নৈতিকতা তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, আল্লাহ প্রদত্ত ইলম মানুষের জীবনে আলো ছড়ানোর সবচেয়ে বড় শক্তি। এই জ্ঞান যদি সঠিক নিয়তে অর্জন করা যায় এবং মানবকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তবে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে।
বইটিতে আরও উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচিত হয়েছে—স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস, সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের উপায় এবং দৈনন্দিন জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কৌশল। শুধু তাই নয়, যারা লেখালেখি জানে কিন্তু সেখান থেকে আয় করতে পারছে না, তাদের জন্যও বইটিতে বাস্তব দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে অসংখ্য ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ভিড়ে কীভাবে সঠিক তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে গবেষণামুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে হয়—এসব বিষয়ও বইটিতে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ‘জ্ঞানের জগৎ’ কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; বরং শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণ গবেষকদের জন্যও একটি উপযোগী গ্রন্থ।
বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা ‘জ্ঞানের জগৎ’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় এই বইটি একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংযোজন। তাদের মতে, এই বইটি শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস বদলে দিতে পারে এবং পড়াশোনার প্রতি ভয় দূর করে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম। বইটি শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফল করার পথই দেখায় না, বরং চিন্তাশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার দিকনির্দেশনাও দেয়।
সবশেষে বলা যায়, পদ্ধতিই ফলাফল বদলায়—এই মূল দর্শনকে সামনে রেখেই ‘জ্ঞানের জগৎ’ রচিত। একটি বই যে একজন শিক্ষার্থীর পড়ার অভ্যাস, চিন্তার ধরণ এমনকি জীবনের লক্ষ্যও বদলে দিতে পারে—‘জ্ঞানের জগৎ’ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
আজকের এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শুধু একটি বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে শেখার পথ দেখানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। যারা পড়াশোনাকে সহজ, উপভোগ্য ও ফলপ্রসূ করতে চায় এবং যারা জ্ঞানকে জীবনের ও আয়ের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—তাদের জন্য ‘জ্ঞানের জগৎ – World of Knowledge’ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও মূল্যবান গ্রন্থ।
👁️ 14 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *