দুবাই প্রবাসীর ২০ লাখ টাকা, জাল কাবিননামা ও একাধিক মামলা : মাগুরার মুরশিদা খাতুন কারাগারে

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি (মাগুরা) : মাগুরায় প্রবাসী স্বামীকে ফাঁসাতে জাল কাবিননামা তৈরি ও একের পর এক মামলা দায়েরের অভিযোগে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনাটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলার হাজিপুর ইউনিয়নের হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মুরশিদা খাতুন (পিতা: মো. হামিদ মোল্লা) এর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্বামী মো. রুমন খাঁর পরিবার পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

প্রেম থেকে বিবাহ, এরপর প্রবাস : অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ২০১৩ সালে মাগুরা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হাজির হয়ে মুরশিদা খাতুন ও একই গ্রামের মো. রুমন খাঁ (পিতা: মৃত সুরুজ খাঁ) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে রুমন খাঁ দুবাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী মুরশিদা খাতুনের কাছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অর্থের হিসাব চাইতেই শুরু দ্বন্দ্ব : রুমন খাঁ দেশে ফিরে স্ত্রীর কাছে পাঠানো অর্থের হিসাব চাইলে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে না পারায় দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছেদের দিকে গড়ায় এবং তালাক কার্যকর হয় বলে দাবি করা হয়।


বিজ্ঞাপন

জাল কাবিননামা ও পাল্টাপাল্টি মামলা : তালাকের পর মুরশিদা খাতুন ঢাকা সিএমএম আদালতে ৫৮৪/২৪ এবং ঢাকা পারিবারিক আদালতে এফসি ৭৬৮/২৪ নম্বরে মামলা দায়ের করেন। রুমন খাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এসব মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে জাল ও ভুয়া কাবিননামা ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রুমন খাঁ দুবাই থেকে তার মাকে বাদী করে মাগুরা শ্রীপুর আমলী আদালতে সিআর ৩৯৭/২০২৫ নম্বরে মামলা দায়ের করেন।


বিজ্ঞাপন

ডিবি তদন্তে সত্যতার ইঙ্গিত : আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। ডিবির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

আদালতে হাজির, জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ : সমন জারির পর ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুরশিদা খাতুনসহ তিনজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে মুরশিদা খাতুনের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া মামলাটি বিচারের জন্য বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ : এ ঘটনাকে ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হয় যখন অভিযোগ ওঠে—এর আগেও হাজিপুর ইউনিয়নের হৃদয়পুর গ্রামে মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. সাহেব আলী ও কার্যনির্বাহী সদস্য সুবীর কুমার ঘোষ সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে মুরশিদা খাতুন তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে অশালীন ভাষায় কথা বলেন, গালাগালি করেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এখন সবার প্রশ্ন : একটি প্রেমের সম্পর্ক কীভাবে পরিণত হলো জাল দলিল, কোটি টাকার লেনদেন ও একাধিক মামলার জটিলতায়? ডিবি তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী রায়ে কী বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য?

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *