গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগের ছায়া : কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে নুরুল আমিন মিয়া ?

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়া।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :  বিগত সরকারের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও, অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে নাম উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার।

অভিযোগের পাহাড়, কিন্তু শাস্তি কোথায়  ? বিভিন্ন সময় দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, সরকারি প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে শাস্তির সুপারিশও করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে সেই সুপারিশ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।


বিজ্ঞাপন

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযানে নেমেছিল বলে জানা যায়। একটি ১২০ কোটি টাকার অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল দরপত্র পুনরায় আহ্বান ও নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে।

পরে মন্ত্রণালয় দরপত্র বাতিল করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে একই প্রকল্প নতুন আইডিতে (১২০৭৪৯৯) পুনরায় আহ্বান করা হয়—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অতীত সম্পর্ক ও প্রভাবের প্রশ্ন  :  অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যা তাকে বারবার পদোন্নতি পেতে সহায়তা করেছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পদের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন  :  নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস, গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয়, কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত—এসব তথ্য বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, তার বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নীরবতা ও অদৃশ্য প্রভাব  ?  গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।” অভিযোগ আছে—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে তিনি বারবার অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। যদিও এ দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

তার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করা এবং খুদে বার্তার উত্তর না দেওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে ছাড় দেওয়া হবে না।”

মূল প্রশ্ন : যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়—তাহলে কেন তা স্পষ্টভাবে খণ্ডন করা হচ্ছে না? আর যদি অভিযোগে সত্যতা থাকে—তবে কেন এখনো কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয় ?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

👁️ 87 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *