দায়িত্ব ছাড়ার পরও এক বছর ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ মর্যাদায় থাকছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সারাদেশ

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি – সংগ্রিহীত।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বে নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর জীবনে। সরকার তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (Very Important Person) হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে দায়িত্ব-পরবর্তী সময়েও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকবেন।

গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা   :  গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী ড. ইউনূসকে এই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব মোঃ সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

এই ঘোষণার ফলে দায়িত্ব শেষ হলেও ড. ইউনূস এসএসএফের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবেন—যা সাধারণত রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত।


বিজ্ঞাপন

নতুন কিছু নয়, তবে ব্যতিক্রম সময়সীমায় : দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রধান উপদেষ্টাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার নজির বাংলাদেশে একেবারে নতুন নয়। ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর একটি গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টাকেও একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তখনকার প্রজ্ঞাপনটি ছিল Special Security Force Ordinance, 1986-এর আওতায়।

সে সময়ের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে দায়িত্ব ছাড়ার পর বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা যেত। মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ২০০২ সালের একটি আগের প্রজ্ঞাপন বাতিলের কথাও উল্লেখ ছিল।

অতীত ও বর্তমানের বড় পার্থক্য  :  ২০০৬ সালের প্রজ্ঞাপনে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সময়সীমা ছিল তিন মাস। কিন্তু ২০২৬ সালের নতুন প্রজ্ঞাপনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে পূর্ণ এক বছর—যা পূর্ববর্তী নজিরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘ। এই সময়সীমা বৃদ্ধিই পুরো বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। একদিকে এটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক নীতিমালার বিবর্তনের দিকটিও তুলে ধরে।

রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে ধারাবাহিকতা ও বার্তা :  বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব-পরবর্তী সময়েও উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একদিকে নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের ধারাবাহিকতার অংশ। ড. ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রদান রাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দায়িত্বের ইতি টানলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধ্যায় এখনো সমাপ্ত নয়। এক বছরের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ মর্যাদা তাঁর পরবর্তী কর্মকাণ্ড ও উপস্থিতিকে ঘিরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে—যা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

👁️ 63 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *