
নিজস্ব প্রতিবেদক : মাত্র ১৪ বছরের সরকারি চাকরি। মাসিক বেতন-ভাতা মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু এই সীমিত আয়ের বিপরীতে বিপুল সম্পদের মালিকানা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন নবাবগঞ্জ ও ধামরাইয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল হাসান।

অভিযোগ উঠেছে, ২৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা নাজমুল হাসান চাকরি জীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিজের নামের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চাকরিজীবনের ১৪ বছরে বেতন, ভাতা, টিএ/ডিএসহ তার মোট বৈধ আয় আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে দেড় কোটির বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ অভিযোগ অনুযায়ী, তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ এ আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি।
বর্তমানে পরিবার নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন নাজমুল হাসান। তার সন্তানরা পড়াশোনা করছে দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

এছাড়া তার ব্যবহারে রয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি।
যদিও তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়, তথাপি জেলার বিভিন্ন স্থানে তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় প্রায় তিন একর জমিতে মাছের ঘের পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামেও কয়েক একর জমি ক্রয়ের তথ্য সামনে এসেছে।

মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশের একটি ভবনের নবম তলায় একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনেও তার পরিবারের নামে আরেকটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সাটুরিয়ার সাভার গ্রাম এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জায়গা-জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা হতে পারে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি গুরুতর উদাহরণ। তবে নাজমুল হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানা গেলে এ বিষয়ে তার অবস্থান ও ব্যাখ্যা স্পষ্ট হতে পারে।
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হলে তা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও প্রভাব ফেলে।
