রাস্তায় ফের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, (নীলফামারী)   :   বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, রক্ষা করবে কে?নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি অর্থে একটি সড়ক সংস্কারকাজ ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে পরিদর্শনের পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলেও সেই উপকরণ সরিয়ে না নিয়েই আবারও সংস্কারকাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। দুই কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্পে ঠিকাদারের অনিয়মের পাশাপাশি কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে এলজিইডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিমলার বাবুরহাট জিসি-ডালিয়া আরএইচ সড়ক ভায়া শুটিবাড়ি সড়ক সংস্কারকাজে এ ঘটনা ঘটেছে। গত (২২ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের মতোই রাবিশ মিশ্রিত নিম্নমানের খোয়া, ভাঙা ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সময়ান্তর রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে সড়কটির সংস্কারকাজ নেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৫ টাকা। চুক্তিমূল্য ২ কোটি ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা ২৫ পয়সা। কাজটি পেয়েছে নীলফামারী সদরের মসজিদপাড়া এলাকার মেসার্স সিদ্দি ইঞ্জিনিয়ারিং মার্কস। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজার রহমান সাদ্দাম।

কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ কাজ শুরু হয়ে ১৮ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি। বরং কাজের শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের পর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান এবং এলজিইডির জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিদর্শনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়।

কিন্তু এরপরই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ও ভাঙা ইট সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং সেগুলো দিয়েই পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কার্পেটিং তুলে পুনরায় ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কোথাও রাবিশ মিশ্রিত খোয়া দিয়ে বেজ তৈরির কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে রেজিংয়ের ক্ষেত্রেও মানসম্মত নতুন ইটের পরিবর্তে ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আগের অনিয়ম ধরা পড়ার পরও একই ধরনের উপকরণ কীভাবে পুনরায় প্রকল্পের কাজে ঢুকল ?

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ হওয়ার পরও একই ধরনের মালামাল দিয়ে আবার কাজ করায় তারা হতাশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। এরপর পরিদর্শনে ত্রুটি ধরা পড়লেও কার্যকরভাবে উপকরণ অপসারণ ও মান নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এলজিইডি নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো, শামীম আখতার বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন ভালো মানের মালামাল দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমানও একই দাবি করে বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম পাওয়ায় আগের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নতুন করে মানসম্মত মালামাল সরবরাহ করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সরেজমিনে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ এবং প্রকৌশলীদের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে যে কাজ একবার অনিয়মের কারণে বন্ধ করা হয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর আগে উপকরণ পরীক্ষা, অপসারণ ও মাননিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রকল্পের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত না করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে না।

তাদের দাবি, প্রকল্পের ব্যবহৃত খোয়া, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর গুণগত পরীক্ষা, কাজের পরিমাণ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার এবং পূর্বের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করা হোক।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থার ওপর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ যাচাই এবং মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

👁️ 25 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *