ভদ্রতার আড়ালে ইয়াবা সাম্রাজ্য: বনানীর ‘সোশ্যাল এলিট’ কারবারি আশিক

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : চোখেমুখে একধরনের সহজ-সরল ভাব, মার্জিত কণ্ঠস্বর আর অভিজাত পোশাকে চলাফেরা—বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই। অথচ এই ভদ্রতার নিখুঁত মুখোশের আড়ালেই বনানী এলাকার এক আতঙ্কজনক ও শক্তিশালী ইয়াবা সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন আদিব জামান ওরফে আশিক। গুলশান ও বনানীর উচ্চবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের প্রধান মাদক যোগানদাতা হিসেবে গড়ে উঠেছে তাঁর এই সিন্ডিকেট।


বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বনানীর ১৩ নম্বর রোডের নিজস্ব বাড়িতে বসেই পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছেন আশিক। নিছক মাদক কেনাবেচা নয়, আধুনিক হোম ডেলিভারি সার্ভিসের আদলে চলছে এই অবৈধ কারবার। ক্রেতারা কেবল ফোনে অর্ডার করেন এবং বিকাশ কিংবা নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করলেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যায় চাহিদামতো ইয়াবার চালান। আর এই পুরো লেনদেন ও চলাফেরার জন্য তিনি ব্যবহার করেন নিজের ব্যক্তিগত দামি বিলাসবহুল কার।

আদিব জামান আশিকের ক্রেতা তালিকার বড় একটি অংশ সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান। গুলশান ও বনানী এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার বাজারে নিজের একক ও নিরঙ্কুশ আধিপত্য কায়েম করতে অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের অস্ত্র দেখিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তার হেফাজতে দুটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর এলাকাকে তার এই অবৈধ ব্যবসার মূল ‘লেকশন পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কীভাবে বছরের পর বছর এমন রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন আশিক—তা নিয়ে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, তার মাথার ওপর রয়েছে পুলিশের এক প্রভাবশালী এসপি (পুলিশ সুপার)-এর প্রত্যক্ষ হাত। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে আটকা পড়ার উপক্রম হলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার তদবির ও হস্তক্ষেপে প্রতিবারই পার পেয়ে যান এই ইয়াবা সম্রাট।


বিজ্ঞাপন

বিষয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “মাদক ব্যবসায়ী কিংবা অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদক কারবারিকে শেল্টার দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে, তবে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বিজ্ঞাপন

বিশিষ্ট অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং হোম ডেলিভারির মাধ্যমে এ ধরনের কারবার সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সংকেত। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাজনৈতিক ও প্রভাব বলয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।

👁️ 17 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *