
নিজস্ব প্রতিনিধি (জামালপুর)৷ : জামালপুরের মাদারগঞ্জে ভেঙে যাওয়া রাস্তা মেরামতের কাজে বাধা, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদ সুজনের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় আহত ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনের ভাই মো. নিমন মোল্লা বাদী হয়ে আবু সাঈদ সুজনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারী বর্ষণে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে যায়। এতে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। গত ৭ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে চর নগর সরকার বাড়ির উত্তর পাশে শাহজাহানের বাড়িসংলগ্ন রাস্তাটির মেরামতকাজ চলাকালে আবু সাঈদ সুজনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজাম উদ্দিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে আবু সাঈদ সুজনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁকে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং শৃঙ্খলাপরিপন্থী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি বিরত হননি। এ কারণে তাঁকে দপ্তর সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আহত নিজাম উদ্দিনের ভাই মো. লেমন মোল্লা বলেন, “আমার ভাইকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তাঁকে এতটাই আঘাত করা হয়েছে যে, এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামলার সময় তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদ সুজনের নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বিজ্ঞাপন
আহত ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন জানান, রাস্তা মেরামতের কাজ বন্ধ করে দিয়ে অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল রেখে যান হামলাকারীরা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. তৌফিকুল ইসলাম খালেক জানান, পরিষদের অনুমতিক্রমে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ভেঙে যাওয়া রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করেন ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন। এ সময় আবু সাঈদ সুজনসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের কাজে বাধা দেন এবং তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে পরিষদ থেকে এখনো কোনো প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে নিজ উদ্যোগেই নিজাম উদ্দিন রাস্তাটির মেরামতকাজ শুরু করেছিলেন।
অন্যদিকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আবু সাঈদ সুজন বলেন, “আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে তাঁরা আমাকে ডেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। বর্তমানে আমিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।”
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনকে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
