
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এ তেল চুরির অভিযোগে তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মিটার অপারেটর মো. আবুল হোসেন, কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ এয়াকুব এবং গেজার (তেল পরিমাপক) জয়নাল আবেদীন ওরফে টুটুল।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমীর মাসুদ।
বরখাস্তের পেছনে কী অভিযোগ ? অভিযোগ রয়েছে, এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে একটি তেল চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন বা তদন্তাধীন—এমনটাই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিধি অনুসরণ করেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তাধীন।”

ডিজিএম (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে বিতর্ক :
অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে কোম্পানির ডিজিএম (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ে থেকে অপারেশনাল প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের স্বার্থে তার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পারিবারিক সম্পর্কের অভিযোগ : স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে তিনি প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার অবস্থান অটুট থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি?
ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদের প্রশ্ন ; বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, চট্টগ্রামের একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার ও তার পরিবারের নামে অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং গত এক বছরে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন হয়েছে। তবে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই ছাড়া অর্থপাচারের অভিযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পদের বিস্তার: প্রশ্ন ও বাস্তবতা : চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জ এলাকায় একাধিক বাড়ি, গ্রামে আবাসন নির্মাণ, বিদেশে ফ্ল্যাট কেনা—এসব বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দলিল, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারে।
কেন হয়নি তদন্ত ? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— এত অভিযোগের পরও কি কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে ? জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কি অভ্যন্তরীণ অডিট করেছে ? দুদক কি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
জবাবদিহিতা কোথায় ? রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তা পরিষ্কার করাও সমান জরুরি। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও দুদকের কাছে দাবি উঠেছে— নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত জনসম্মুখে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক।
