সনাতন ধর্ম্মালম্বীগণ নির্ভয়ে ধর্ম-কর্ম পালন করুন : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  :   জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। সনাতন ধর্ম্মালম্বীরা আমাদের সমাজেরই অংশ। আপনারা নির্ভয়ে ধর্ম-কর্ম পালন করুন, কেউ আপনাদের বাঁধা দিবে না। আমরা সেই বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া সার্বজনীন পঞ্চাঙ্গ মন্দিরের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমরা চাই প্রত্যেক ধর্মের মূল্যবোধের আলোকে সমাজ পরিচালিত হোক। সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সপ্রীতি বজায় থাকুক, এলাকায় শান্তি বিরাজ করুক, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুট থাকুক, আসুন সমাজ উন্নয়নে সকলে মিলে একসাথে কাজ করি।


বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য দল-মত, পথ, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে কে হিন্দু, কে মুসলিম-এটা মুখ্য নয়; মানুষ হিসেবে আমাদের কর্মই সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মের মাধ্যমেই একজন মানুষ ও একটি সমাজের মূল্যায়ন হয়। ধর্মীয় শিক্ষার মূল কথা হলো মানবতা, ন্যায়, সততা ও পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।


বিজ্ঞাপন

তাই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে সমান অধিকার দিতে হবে। সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টানদের ধর্মগুরুসহ সব ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সনাতন ধর্মীয় পুজারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ- সবাই যেন গর্ব করে বলতে পারে, এই দেশ আমাদের, আমারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, আসুন সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করি।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মভেদ না করে সবাই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছিল। তখন কেউ দেখেনি কে কোন ধর্মের। ঠিক তেমনি এখন সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার, আর সে কাজে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে সকলকে আহবান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

👁️ 184 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *