নাখালপাড়ায় কিশোর গ্যাং ‘শান্ত বাহিনী’র ত্রাস: ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতা

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে কিশোর গ্যাং ‘শান্ত বাহিনী’। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ হেন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই বাহিনীর দৌরাত্ম্য না কমায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাখালপাড়ার পাগলারপুল সংলগ্ন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের নির্জন এলাকাটি এখন শান্ত বাহিনীর ‘সেফ জোন’। দিনের আলোয় সেখানে দলবেঁধে মাদক সেবন ও বিক্রির মহোৎসব চলে। ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির মূল নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে চিহ্নিত এই বাহিনীর প্রধান শান্ত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোর বয়সের ছেলেদের প্রলুব্ধ করে এই গ্যাং-এ টেনে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, শান্তর এই বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে ছিল বিগত সরকারের প্রভাবশালী শক্তির মদত। শান্তর এক আপন চাচা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের এপিএস হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও খুব দ্রুতই থানা থেকে বেরিয়ে আসতেন। পুলিশের রেকর্ডে তার নামে একাধিক মামলা ও গ্রেফতারের তথ্য থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় প্রতিবারই পার পেয়ে যেতেন তিনি।
শান্ত বাহিনীর অপরাধের ধরন এখন অনেকটা পেশাদার ডাকাত দলের মতো। সন্ধ্যা নামলেই তারা এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তাদের ছিনতাইয়ের একটি নতুন কৌশল সামনে এসেছে। অন্য এলাকার কিশোরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে প্রথমে তাদের নাখালপাড়ায় নিয়ে আসা হয়, এরপর অস্ত্রের মুখে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী কিশোর ফেসবুকে এই চক্রান্তের বিস্তারিত তুলে ধরলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।
শান্ত বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “ওদের কারণে সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। আমরা চাই এই গ্যাং কালচারের স্থায়ী অবসান।”
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় শান্তি ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাখালপাড়াবাসী।
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের একজন সদস্য বলেন, “শান্ত বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে প্রায়ই প্রতিপক্ষ গ্যাংয়ের ওপর হামলা চালায়। এদের কাছে দেশীয় অস্ত্র থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে। এদের দ্রুত দমন করা না গেলে বড় ধরনের রক্তক্ষয় হতে পারে।”
তেজগাঁও থানা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, “অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। কিশোর গ্যাং হোক বা অন্য কোনো অপরাধী দল—কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নাখালপাড়া এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং শান্তসহ এই বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।”
👁️ 176 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *