
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক ভিটায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুকান্ত মেলা’। “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি— নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”— ২১ বছর বয়সে যে কবি এমন অটল শপথ নিয়েছিলেন, সেই বাংলা সাহিত্যের অমর স্রষ্টার ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে উপজেলার উনশিয়া গ্রামে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী এবং জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে উদীচী ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় কবির অমর কবিতা ও গান।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে আজ ১৪ মে বসবে বাউল, জারি ও লালনগীতির আসর। আগামীকাল ১৫ মে সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গ্রামীণ মেলার পাশাপাশি প্রতিদিন থাকছে আলোচনা সভা ও সাহিত্য প্রতিযোগিতা।

উনশিয়ার এই মেলা প্রসঙ্গে স্থানীয় ধারাবাশাইল আদর্শ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় বলেন, “সুকান্ত মেলা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি মুক্তবুদ্ধি ও দ্রোহের চেতনার মিলনমেলা।

এখানে এলে মনে হয় কবি আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন।” কোটালীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক জানান, কবির স্মৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের হৃদয়ে জীবন্ত রাখতে এই মেলাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও তাঁর ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’ বা ‘পূর্বাভাস’-এর মতো অমর সৃষ্টিগুলো আজও শোষিত মানুষের প্রেরণা। পৈতৃক ভিটার এই মাটি ও মানুষের ভিড়ে কবি যেন আজও তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার লেখনী নিয়ে মিশে আছেন।
