
প্রফেসর ড.মোহাম্মদ ইউনুস। ছবি সংগৃহীত।

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে এই দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে সাময়িক। পরবর্তী ধাপে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আর এই প্রেক্ষাপটেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
এরই মধ্যে একটি সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে—নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হতে পারেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই মনে করছেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ড. ইউনূসকে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকার একটি জটিল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সময় অতিক্রম করছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা সমীকরণের মধ্যে সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বৈশ্বিক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা, বিভিন্ন দেশের সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক পরিসরে তার পরিচিতি—দেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বড় সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
এদিকে, বিগত সরকারের সময়ের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে রয়েছে। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আদায় ও বৈদেশিক চাপ মোকাবেলায় একজন গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দেশের জন্য, বিএনপির জন্য এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একজন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারেন—এমন মতও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কেউ কেউ মনে করছেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পর বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য ড. ইউনূস হতে পারেন একজন নিরাপদ, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব।
তবে ড. ইউনূস যদি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আসতে পারেন মেজর (অব.) হাফিজ আহমেদ, বীর বিক্রম। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দলের ভেতরে পরীক্ষিত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।
এমন সম্ভাবনাও কেউ কেউ দেখছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের মহাসচিব পদেও তার নাম আলোচনায় আসতে পারে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক বাস্তবতা, জাতীয় স্বার্থ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাষ্ট্রপতির আসনে কে বসবেন তা নয়, বরং কে দেশের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, স্থিতিশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোন পথে যায় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কার নাম উঠে আসে।
