
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মঠবাড়িয়া থানার এলাকার সালমা (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণীর অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থাকা অবস্থায় নুর ইসলাম বাদল তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সালমার দাবি, অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ায় তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। তার কাছে থাকা কথোপকথনের রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

একাধিক বিয়ের অভিযোগ : সাবেক ওসি নুর ইসলাম বাদলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও আইনগত নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
থানায় দায়িত্ব পালনের সময় কনস্টেবলদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ : অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নুর ইসলাম বাদল বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে অধীনস্থ নারী কনস্টেবলদের প্রতিও অনৈতিক বা কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেউ কথিত প্রস্তাবে রাজি না হলে চাকরি নিয়ে ভয় দেখানো, বিভিন্নভাবে হয়রানি কিংবা কর্মক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করার মতো আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচিব ভাইয়ের প্রভাব দেখানোর অভিযোগ : অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নুর ইসলাম বাদল তার এক ভাই সচিব পদে রয়েছেন—এমন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ওই পারিবারিক পরিচয় ও ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতেন।
তবে তার ভাইয়ের সরকারি পদ, কথিত প্রভাব বিস্তার এবং এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কল রেকর্ড থাকার দাবি : ভুক্তভোগী সালমার দাবি, নুর ইসলাম বাদলের সঙ্গে তার কথোপকথনের কিছু কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এসব রেকর্ডে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে রেকর্ডগুলোর সত্যতা, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং কথোপকথনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগও সামনে : সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাবেক ওসি নুর ইসলাম বাদলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বা সমালোচনা করায় একজন সাংবাদিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। এমনকি মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। তবে মামলার প্রকৃতি, তদন্তের ফলাফল ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি : ভুক্তভোগী সালমা বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার অংশ হতে চান না। তার কাছে থাকা কল রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তার দাবি।
সচেতন মহলের মতে, একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, প্রমাণ যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি।
এ বিষয়ে সাবেক ওসি নুর ইসলাম বাদলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
