
মোঃ নুরুন্নবী (পাবনা) : পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নে জামায়াত কর্মী আব্দুল গনিকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পাবনা পৌর ও সদর উপজেলা জামায়াত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে শহরের শহীদ চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জামায়াতের নেতারা বলেন, আব্দুল গনিকে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। ১১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে যেন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জামায়াত নেতারা।

সমাবেশে আরও বলা হয়, আব্দুল গনির পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ গ্রামের নিজ বাড়িতে আব্দুল গনিকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল গনি (৪৫) নলদহ গ্রামের মৃত খোদা বক্সের ছেলে। তিনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে দলটির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি এসএম সোহেল, পৌর আমীর আব্দুল লতিফ, সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আমীর জাকারিয়া হোসেন, সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল আইনুল প্রমুখ।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জামায়াতে আমির রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নিহত গনি আমাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত নির্বাচনে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। তাকে প্রকাশ্যে এভাবে গুলি করা হয়েছে। ভাঁড়ারার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান ও তার দোসররা এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এদেরকে চিন্হিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে হবে। অন্যাথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত)
সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলালক রেকর্ড হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও সাচ্চু নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
