
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : মহাত্মা লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে বর্ণাঢ্য রেলি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মহাত্মা লালন সাঁইজি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম ও চিরন্তন মানবতার প্রতীক। তাঁর দর্শনে কোনো জাত-পাত বা ধর্মের ভেদাভেদ ছিল না; মানুষই ছিল তাঁর ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।
বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন মানবতাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালনের দর্শন চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তরুণ প্রজন্মকে লালন সাঁইজির জীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে জেলা প্রশাসন সব সময় এ ধরনের উদ্যোগের পাশে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারেক সুলতান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ। ‘লালন দর্শন ও তাঁর মানবতাবাদ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেহ।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফারহান কবীর সিফাতের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জমকালো ও নান্দনিক হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্হা, ত্রিবেনী গণসাংস্কৃতিক সংস্হা, মৃদঙ্গ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, বিশ্ববীণা সংগীত একাডেমি, গোপালগঞ্জ কালচারাল ক্যানভাস ও জলসা ঘর সংগীত একাডেমি গোপালগঞ্জের শিল্পীরা যৌথ ও এককভাবে কালজয়ী লালনগীতি পরিবেশন করেন। এছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পী মোঃ হাফিজুর রহমান শেখ, মমতা দাসী বাউল, সজীব দত্ত ও শেখ সবুজ প্রমুখ।
আয়োজনে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক অনুরাগী, লালন অনুরাগী দর্শক-শ্রোতা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
