বনানী থানা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে আ. লীগ প্রীতির অভিযোগ  : ‘গুম-গ্রেফতারের নাটক ! 

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  বনানী থানা ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ নাজমুল খাঁন (ফারহান)-এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নিজেকে ছাত্রদলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে বিগত সরকারের দোসর হিসেবে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। সুবিধাভোগী এই নেতাকে ছাত্রদলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না বসাতে দলের হাইকমান্ড ও ত্যাগী নেতাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাজমুল খাঁনের বাবা ফরিদ খাঁন ছিলেন বনানী থানা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বাবার দলীয় পরিচয়ে নাজমুল এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন। তিনি তার বাবার সঙ্গে শ্রমিক লীগের প্রতিটি দলীয় প্রোগ্রামে সরাসরি উপস্থিত থাকতেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করতেন।
এছাড়া দলের প্রভাব ধরে রাখতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতাদের ‘তেল মর্দন’ করে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট দিতেন নাজমুল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাবা ফরিদ খাঁন শ্রমিক লীগের পদ ব্যবহার করে বনানীর বেলতলা এলাকায় একচ্ছত্র চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
সম্প্রতি বনানী থানা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন নাজমুল খাঁন। সেখানে তিনি দাবি করেন, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২২ জুলাই তিনি গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং বিগত দিনে দু’বার রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন।
তবে অনুসন্ধানে তার এই দাবির বিপরীত চিত্র ভেসে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের তাণ্ডব চলাকালে শ্রমিক লীগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা গোপন রাখতে ও গ্রেফতার এড়াতে নাজমুল মূলত আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তীতে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সুযোগ বুঝে রাজপথে বেরিয়ে এসে একটি ছবি তোলেন এবং পরবর্তীতে দাবি করেন তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। অথচ ৫ই আগস্টের আগে আন্দোলনে তার অংশ নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দু’বার রাজনৈতিক কারণে জেল খাটেন বলে যে দাবি নাজমুল করেছেন, তা-ও মিথ্যা বলে বেরিয়ে এসেছে। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে নয়, বরং তৎকালীন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছিরের অনুসারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঝগড়া ও মারামারির ঘটনায় তিনি জেল খেটেছিলেন।
বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নাজমুলের বাবা শ্রমিক লীগ নেতা ফরিদ খাঁন আত্মগোপনে থাকলেও, নাজমুল ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে পুনরায় এলাকায় নিজস্ব আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বনানী থানা ছাত্রদলের এক জ্যেষ্ঠ ত্যাগী নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “যারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, হামলা-মামলার শিকার হয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে যদি আওয়ামী লীগের দোসর বা সুযোগ সন্ধানীদের স্থান দেওয়া হয়, তবে তা হবে শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। নাজমুল খাঁন বা তার পরিবার সবসময় ক্ষমতার সুবিধা নিয়েছে। আমরা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ করব, এই রূপ পরিবর্তনকারী সুবিধাবাদীদের যেন কোনো পদ-পদবি না দেওয়া হয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনানী থানা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ নাজমুল খাঁনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে সার্বিক বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, “ছাত্রদল কোনো সুযোগ সন্ধানী বা বিতর্কিত ব্যক্তির স্থান নয়। বনানী থানা ছাত্রদলের আগামী কমিটি পুনর্গঠনে অবশ্যই ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ও বিগত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। নাজমুল খাঁনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি; তথ্যপ্রমাণ সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
👁️ 30 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *