​সুন্দরবনের ‘সুন্দরী’ গাছে সুবাতাস: কমছে আগামরা রোগ, বাড়ছে কার্বন ধারণ ক্ষমতা

Uncategorized খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার,  (শরণখোলা)  :  বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ নিয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য মিলল। শতাব্দীপ্রাচীন পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে পরিচিত সুন্দরী গাছের ‘টপডাইং’ বা আগামরা রোগের প্রকোপ এখন আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।


বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে গত চার দশকে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের কার্বন ধারণের মোট পরিমাণ ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯২১ সালে ব্রিটিশ বন বিশেষজ্ঞ আর. এস. ট্রুপ প্রথম সুন্দরী গাছের এ রোগাক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে রোগটি আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করে।

বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর এ অঞ্চলে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা টপডাইং রোগ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, ছত্রাক ও মাটির বৈচিত্র্যিক সমস্যাকে এর জন্য দায়ী করা হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

​শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক এবং সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ড. স্বপন কুমার সরকার “শরণখোলা দর্পণ”-কে জানান, গত ৪০ বছরে সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের কার্বন ধারণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টন বা ২১ শতাংশ বেড়েছে।


বিজ্ঞাপন

এ সময়ে রোগাক্রান্ত গাছের সংখ্যা ৬ শতাংশ কমেছে এবং গোটা বনে সুন্দরী গাছের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে কেবল আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করলেই চলবে না, বরং প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং এবং প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।


বিজ্ঞাপন

​খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, বন অধিদপ্তরের ‘সুন্দরবন সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণায় সুন্দরী গাছের কার্বন ধারণ ক্ষমতা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

​বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে বনের ভেতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে নতুন চিত্র। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সামান্য কিছু অংশ বাদে বনের সার্বিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং নতুন করে সুন্দরী গাছের চারা জন্ম নিচ্ছে। একইভাবে, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ হাছানুর রহমান জানান, বনের ভেতর এখন হাঁটলেই সুন্দরী গাছের বীজ ও চারা অহরহ চোখে পড়ছে, যা নতুন বাগান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

👁️ 27 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *