সরিষাবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরী ধর্ষণ, আদালতে মামলা

সারাদেশ

মো. মোস্তাফিজুর রহমান,সরিষাবাড়ী : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সৎ বোন ও দুলা ভাইয়ে’র সহযোগীতায় আশেক আলী (১৯) নামে এক যুবক বিয়ের প্রলোভনে (১৪) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে।এই অভিযোগ তুলেছেন ধর্ষণের শিকারের পরিবার।এ ধর্ষণ ঘটনার বিচার চেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ জামালপুর আদালতে গত ১৫ নভেম্বর ধর্ষণের শিকার (১৪) এর পিতা সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামের মজনু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দায়ের করা মামলায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার গ্রামের হেলাল উদ্দিন এর ছেলে আশেক আলী(১৯) যুবককে প্রধান আসামী করে অপর ২ জন ছাইদুর রহমান(২৮) ও মলি বেগম(২৫)কে ধর্ষণের সহযোগীতার অভিযোগ এনে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষণের শিকার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করায় মামলার আসামীরা মামলার বাদী মজনু মিয়া কে হারুন ও সুলতান মিয়ার বাড়ীতে তুলে নিয়ে তাদের বাড়ীতে আটকিয়ে রাখে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য ডেগার ও রাম দা ধরিয়া মৃত্যু ভয় ভীত দেখানো ছাড়াও নানা হুমকি ও অব্যাহত রেখেছে।আসামীদের নানা হুমকির ঘটনায় মজনু মিয়া বাদী হয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ক-অঞ্চলে ২৯ নভেম্বর আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় একই উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামের আব্দুর রহিম ভুইয়া এর ছেলে ছাইদুর রহমানকে সহ ৫জনকে আসামী করা হয়েছে।
দায়ের করা মামলার আরজীতে উল্লেখ সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামের মজনু মিয়া তার পাশের বাড়ীতে সৎ মেয়ে মলি বেগম কে ধোপাদহ গ্রামের অঃ রহিম ভূইয়ার ছেলে ছাইদুর রহমান এর কাছে বিবাহ দেন। সম্প্রতি ছাইদুর রহমান তার মামাতো শ্যালক সরিষাবাড়ী পৌর সভার বলারদিয়ার গ্রামে হেলাল উদ্দিন এর ছেলে আশেক আলী(১৯) যাতায়াত করে এবং শিক্ষার্থী (১৪) কে বিবাহ করার প্রস্তাব দেয়।বিবাহের প্রস্তবনায় শিক্ষার্থী (১৪) রাজি না হওয়ার পরেও কু প্রস্তাব দিত আশেক আলী। শিক্ষার্থী (১৪) তার সৎ বোন মলি বেগম ও তার স্বামী ছাইদুর রহমান তাদের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে ডেকে নিযে যেত। শিক্ষার্থীর সৎ বোন মলি বেগম ও দুলাভাই ছাইদুর রহমান কৌশলে (০১-১১-২০২০)ইং তারিখে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়।ওই দিন রাতে শিক্ষার্থীর সৎ বোন মলি বেগম এর বাড়ীতে রাত্রি যাপন করার জন্য মলি’র জামাতা ছাইদুরের মামাত শ্যালক আশেক আলীকে ডেকে নিয়ে তাদের বাড়ীতে রাত্রি যাপনে একই কক্ষে দুটি খাটে থাকতে দেয়। শিক্ষার্থী(১৪) কে ঘুমন্ত অবস্থায় আশেক আলী তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার শরীরের বিভিন্ন স্পষ্টকাতর জায়গায় হাত দিলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় পরে নানা ভয়ভীতি চাকু দেখিয়ে এবং বিবাহ করবে বলে ধর্ষনের চেষ্টা করিলে কান্নাকাটি ও চিৎকার দেবে বললে গামছা দিয়ে মুখ চেপে ধরে রোববার রাএি অনুমান ১টায় শনিবাব দিবাগত রাতে জোরপুর্ব ২ দফা ধর্ষন করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষনের শিকারের সৎ বোন মলি ও ছাইদুর ধামা চাপার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় বিবাহ করাবে বলে আশ্বাষ দিলেও বার বার বিবাহের কথা বলিলে নানা তালবাহানা করতে থাকে তারা। এ বিষয়টি মজনু মিয়া এলাকার গন্যমান্যদের নিকট বিচার প্রার্থী হলে দফায় দফায় গ্রাম্য সালীশে তারা দোষী সাব্যস্থ হয়েও গ্রাম্য সালীশ কে বৃদ্ধাংগুলি প্রর্দশন করে। এর পরে শিক্ষার্থী ও পিতা সরিষাবাড়ী বিচার প্রার্থী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় গেলে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটি আদালতে দায়ের করা পরামর্শ প্রদান করেন। পরে গত ১৫ নভেম্বর ধর্ষনের শিকার (১৪) এর পিতা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জামালপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ ধর্ষন মামলা করায় মামলার প্রধান আসামী ও তার লোকজন বাদীর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করায় নিরাপত্তাহীনতায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট পরিবারটি আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন।