!! মন্তব্য প্রতিবেদন !! ব্যর্থতা শুধু একজনের নয়—১৮ কোটি মানুষের রাষ্ট্রীয় পরাজয়ের দলিল বাংলাদেশ

Uncategorized আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক :  বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটকে যদি এক বাক্যে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে বলতে হয়—এটি কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।


বিজ্ঞাপন

ডক্টর ইউনূস একা ব্যর্থ নন,  ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। কারণ আমরা যে জায়গায় প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি সংস্কারটি করার কথা ছিল—সেই প্রশাসন সংস্কারেই আমরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি।

আজ সেই ব্যর্থতার খেসারত দিতে হচ্ছে রাস্তায়, রাজপথে, থানা চত্বরে, এমনকি মৃতদেহের সারির পাশে দাঁড়িয়ে। প্রশাসন সংস্কার না হওয়াই আজকের রক্তাক্ত বাস্তবতা।


বিজ্ঞাপন

প্রশাসন ছিল রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড  : অথচ সেই মেরুদণ্ডই আজ ভেঙে পড়েছে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে রাখা হয়েছে। যে প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, সেই প্রশাসন আজ জনগণের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়ে উল্লাস করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্ত ঝরে, আর কেউ কেউ সেই দৃশ্য উপভোগ করে—এটাই এখনকার নির্মম বাস্তবতা।


বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন স্থানে লাশ পড়ে থাকে। খুন হয়, গুম হয়, ধর্ষণ হয়। প্রশ্ন হচ্ছে—এগুলো কেন হচ্ছে? আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন—এগুলোর বিচার কেন বাংলাদেশে হচ্ছে না ?

বিচারহীনতার মূল কারণ: স্বৈরাচারপন্থী প্রশাসন :  এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এক জায়গাতেই গিয়ে মিলে—বাংলাদেশের প্রশাসনের ভেতরে এখনো সক্রিয় আছে স্বৈরাচারপন্থী একটি শক্তিশালী অংশ। তারা পুরোপুরি পরাজিত হয়নি। তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা ৫ই আগস্টের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চায়।

এই প্রশাসনিক গোষ্ঠী যতদিন ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বসে থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণের বিচার হবে না—এটাই নির্মম সত্য। তারা আইনকে ব্যবহার করে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে, আর ন্যায়বিচারকে বানিয়েছে একটি নিষ্ক্রিয় শব্দ।

লাঠিচার্জ শুধু শারীরিক আঘাত নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তা : আজ যখন জনগণের ওপর লাঠিচার্জ হয়, তখন সেটি কেবল একটি আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়—এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি স্পষ্ট: “আমরা এখনো আছি। আমরা চাইলে আবার আগের স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনতে পারি।” এই ভয় দেখানোর রাজনীতি দিয়েই তারা জনগণকে চুপ করিয়ে রাখতে চায়, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে চায়।

১২ই ফেব্রুয়ারি, শেষ সুযোগ, শেষ পরীক্ষা : এই অন্ধকার বাস্তবতায় বাংলাদেশের মানুষের হাতে এখন একটিমাত্র সুযোগ খোলা আছে—১২ই ফেব্রুয়ারি। এই দিনটি কোনো সাধারণ নির্বাচনের দিন নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার দিন।

এই ব্যালটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে— স্বৈরাচার থাকবে, না গণতন্ত্র ? বিচারহীনতা থাকবে, না জবাবদিহি? লাঠিচার্জ থাকবে, না নাগরিক মর্যাদা ? ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে শুধু একটি সরকার নয়, স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারী প্রশাসনকে কবর দেওয়ার সুযোগ এসেছে।

ইতিহাস ক্ষমা করে না : ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না—না শাসককে, না নীরব দর্শককে। যদি এই সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের প্রশ্ন করবে—“তোমরা তখন কী করেছিলে ?”এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনই।

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *