ভোলার চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ : সহকারী নাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগের পাহাড়’, সংযুক্তির পর উত্তেজনা চরমে !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বরিশাল বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি (ভোলা)  :  ভোলার চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সহকারী নাহিদা পারভীনের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। সাব-রেজিস্ট্রারকে না জানিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা, দলিলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, এমনকি অনিয়মের প্রতিবাদ করলে স্টাফদের ও পরোক্ষভাবে সাব-রেজিস্ট্রারকে হুমকি দেওয়ার মতো


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে  : অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা জেলা রেজিস্ট্রার গত ৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদা পারভীনকে চরফ্যাশন থেকে ভোলা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেন। তবে সংযুক্তির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাব-রেজিস্ট্রারকে না জানিয়ে মামলা সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রি!
লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর চরফ্যাশন অফিসে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি ভোলা জেলা রেজিস্ট্রার তাকে চরফ্যাশন অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেন।


বিজ্ঞাপন

২৭ জানুয়ারি তিনি সেখানে রেজিস্ট্রেশন কার্য পরিচালনায় যান এবং স্পষ্ট নির্দেশ দেন—মামলা সংক্রান্ত কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে সহকারী নাহিদা পারভীন কৌশলে তথ্য গোপন করে একটি মামলা সংক্রান্ত দলিল রেজিস্ট্রি করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ে।


বিজ্ঞাপন

এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনিয়মের বিস্তারিত লিখিতভাবে ভোলা জেলা রেজিস্ট্রারকে অবহিত করা হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ভোলা জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে সংযুক্ত করা হয়।

সংযুক্তির পর ‘হেনস্তার চেষ্টা’—অফিস কক্ষে উত্তেজনা :
সংযুক্তির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নাহিদা পারভীন তার দুই বোন, স্বামী, বাবা ও বোনের স্বামীসহ পাঁচজন লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সাব-রেজিস্ট্রার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি খারাপ বুঝে তিনি দ্রুত নিজের কক্ষ বন্ধ করে দেন। এরপর তারা তাকে পরোক্ষভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আইআরও মহোদয়কে মৌখিকভাবে অবহিত করেন এবং হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি লালমোহন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

পরিবার-ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ  : অভিযোগে বলা হয়, নাহিদা পারভীনের বোন সাহিদা পারভীন বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা রেজিস্ট্রারী অফিসে প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত। আরেক বোন জাহিদা পারভীন বোরহানউদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। নাহিদার স্বামী চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একজন দলিল লেখক। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা মোতাহার হোসেন ও বোনের স্বামীসহ তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য মিলেনি :  অভিযুক্ত নাহিদা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ভাই ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর বলেন, “আপু অসুস্থ, কোনো বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন না।” এ বিষয়ে ভোলা জেলা সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পুলিশের বক্তব্য :  লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চরফ্যাশন ও লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চলমান এ ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি সংগঠিত প্রভাববলয়ের ইঙ্গিত বহন করে—এমন মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।

👁️ 46 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *