
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে আবারও বড় মাদক চালান আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যাত্রীবাহী স্লিপার বাস থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে গত ১২ মার্চ ভোরে হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরার মোল্লা টাওয়ারের সামনে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি স্লিপার কোচে অভিযান চালানো হয়।
টার্গেটেড অভিযান, ধরা পড়লো বড় চালান : উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে DOEL EXPRESS নামের যাত্রীবাহী বাস (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৯৮৮) তল্লাশি করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা সোয়াইব সরকার (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়।

তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে একটি কালো স্কুল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয়— ৫টি পোটলা, প্রতিটি পোটলায় ১০টি করে পলিপ্যাক প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস ইয়াবাসহ, মোট উদ্ধার: ১০,০০০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট

কৌশল ছিল যাত্রী সেজে পাচার : প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সোয়াইব সরকার দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান সংগ্রহ করে যাত্রীবেশে রাজধানীতে এনে বিভিন্ন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করতেন।
এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ : গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী হাতিরঝিল থানা-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা নিজেই।
অভিযান অব্যাহত থাকবে : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের গোয়েন্দা অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে আন্তঃজেলা পরিবহনে মাদক পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষণ : এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, মাদক পাচারকারীরা কৌশল বদলে সাধারণ যাত্রীবেশে পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার হওয়ায় বড় চালান ধরা পড়ছে নিয়মিতই—যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
