গোপালগঞ্জে পৃথক জাতের তিন ধরনের নমুনা শষ্য কর্তন কর্মসূচি পালন

Uncategorized অর্থনীতি কৃষক ও কৃষি খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী  :  ফলুক ফসল নিজ হাতে, চলুক জীবন সমৃদ্ধির পথে -এই শ্লোগানকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাঠ ফসলের ফলন নিরুপনে সদর উপজেলার হরিদাসপুর ও গোপিনাথপুরে হাইব্রিড ও উফশী দুটি পৃথক জাতের তিন ধরনের ধানের নমুনা শষ্য কর্তন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে ।


বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার সকালে প্রথমে সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়নের রাকিব সড়কে হাইব্রিড জাতের স্বপ্নগোল্ড ধানের নমুনা শষ্য কর্তন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড.মামুনুর রহমান।

এসময় সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ পরিচালক (শষ্য) সঞ্জয় কুমার কুন্ড,সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার, সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জ্বল বিশ্বাস,এসএপিপিও লিয়াকত হোসেন,পাইককান্দি ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস মিত্র,হরিদাসপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাস,কৃষক বদিউজ্জামাল টুকু প্রমুখ।


বিজ্ঞাপন

নমুনা শষ্য কর্তনকালে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার বলেন,স্বপ্নগোল্ড হাইব্রিড জাতের ধান হলেও এটি প্রবল ঝড়-বৃষ্টি সহায়ক।


বিজ্ঞাপন

এর গোড়া বেশ শক্ত হয় বলে ধান গাছ প্রবল বাতাসে হেলে পড়েনা। এ জাতের ধান প্রতি বিঘায় ৪৫ থকে ৫০ মন পর্যন্ত ফলন হয়। ধানের দাম যেমন ভালো পাওয়া যায় তেমনি খেতেও বেশ সুস্বাদু। বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপনের পর ধান গাছ কর্তন পর্যন্ত এ জাতের মোট জীবনী কাল ১৪৫-১৫০ দিন।

কৃষক বদিউজ্জামাল টুকু বলেন,এ বছরই আমি প্রথম তিন বিঘা জমিতে স্বপ্নগোল্ড ধান চাষ করেছি। এবার ভালো ধান হয়েছে বলে আশা করছি আগামী বছরও এই ধানই লাগাবো।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মামুনুর রহমান বলেন, যারা হাইব্রিড জাতের স্বপ্নগোল্ড ধান লাগিয়েছেন তারা লাভবান হয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দেয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি আগামী বছর এ জাতের ধান গাছের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

পরে সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রীধান- ১০৮ এর নমুনা শষ্য কর্তন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার।

এসময় সেখানে এসএপিপিও লিয়াকত হোসেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন বালা,জালালাবাদ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভাস্কর বাড়ৈ,কৃষক উজ্জল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

নমুনা শষ্য কর্তনকালে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাফরোজা আক্তার বলেন, রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনায় চাষকৃত উফশী জাতের ব্রীধান-১০৮ হলো জিংক সমৃদ্ধ এবং ব্লাষ্ট রোগ প্রতিরোধী। এ জাতের ধান থেকে প্রাপ্ত চাউল খেতে সুস্বাদু এবং হজম সহায়ক। এতে ডায়রিয়া-পাতলা পায়খানা প্রতিরোধ করার শক্তি পাওয়া যায়। মোট কথা এটি একটি অনন্য জাতের ধান ।

এ জাতের ধান ১২০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। এ জাতের ধান গাছের গোড়াও বেশ শক্ত হয়। প্রবল ঝড় বাতাসেও ধান গাছ হেলে পড়েনা। চিটা কম হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ জাতের ধান গাছের জীবনী কাল ১৪৫-১৫০ দিন। এই জাতের ধান গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়।

কৃষক উজ্জল মিয়া বলেন,আমি এ বছর আমার ৩৩ শতাংশ জমিতে ব্রীধান-১০৮ লাগিয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমি বীজ,সার,কীটনাশকসহ সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শ পেয়েছি। আগামী বছর আমি আরও বেশি জমিতে এ জাতের ধান লাগাবো বলে আশা রাখি।

এছাড়াও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার গোপীনাথপুর চরপাড়ায় কৃষক মাসুদ শরীফের জমিতে কম্বাইন্ড হারভেষ্টার দিয়ে উচ্চ ফলনশীল ব্রীধান-৮৯ জাতের ধানের নমুনা শষ্য কর্তন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সেখানে এসএপিপিও লিয়াকত হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতের ধান গাছের জীবনী কাল ১৫৪-১৫৮ দিন। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ৫৫-৬০ মন। এ জাতের চিকন চাল ব্রী-২৯ ধান থেকে যে চাল হয় তার বিকল্প। ধান গাছের গোড়া শক্ত হয়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও ধান গাছ হেলে পড়েনা। চিটা কম এবং খেতে হয় সুস্বাদু।

👁️ 38 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *