” খুঁটির জোরে ‘ছাগল লাফায় ”  ভেঙে পড়ছে চেইন অব কমান্ড ! প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রভাবশালীদের দাপটে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা ! 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, যোগ্যতা, পদমর্যাদা ও


বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট কিছু কর্মকর্তা এমন অবস্থানে পৌঁছে গেছেন যে, এখন অধিদপ্তরে “খুঁটির জোরে ছাগল লাফায়”—এমন মন্তব্যই শোনা যাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনাা  :  অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় একজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও ষষ্ঠ গ্রেডপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি সার্জন ডা. কবির আহমেদকে। অথচ একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাখা হয় বিসিএস ক্যাডারের তৃতীয় গ্রেডের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়েজার রহমান এবং চতুর্থ গ্রেডের উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. তারেককে।


বিজ্ঞাপন

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পদমর্যাদার প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে এমন আয়োজন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেই প্রশ্ন এখন অধিদপ্তরের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে চেইন অব কমান্ড বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”


বিজ্ঞাপন

প্রভাবের বলয়ে ডা. কবির  ?  অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সহকারী পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা. কবির আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক সচিব কৃষিবিদ নুরুল ইসলামের বোনজামাই। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস কে ট্রেডার্সের মালিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, এসব সম্পর্ক ও প্রভাবের কারণেই দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর নারায়ণগঞ্জে একই স্টেশনে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালকের একটি পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব লাভ করতে সক্ষম হন।

প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে অবস্থান এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রাপ্তির পেছনে কী বিশেষ কারণ কাজ করেছে?

ঠিকাদারি সুবিধা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ  :  ডা. কবির আহমেদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের দাবি, তার প্রভাবের কারণে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা তাকে বিশেষভাবে সমীহ করে চলেন।

এমনকি বিভিন্ন খাতে চাঁদা আদায় এবং তার মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ ছাড়াই বিল পরিশোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক ঘটনায় বরখাস্ত, অন্য ঘটনায় নীরবতা—দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ  :  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণের অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আলোচিত একটি মহিষের নামফলকে “ডোনাল্ড ট্রাম্প” নামটি ভুল লেখার ঘটনায় পরিচালক ডা. মো. আতিকুর রহমান মিঠুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা-২০১৮-এর পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পরও ডা. কবির আহমেদের বিরুদ্ধে কেন কোনো বিভাগীয় তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

তাদের ভাষায়, “সাধারণ কর্মকর্তার জন্য এক নিয়ম, আর প্রভাবশালীদের জন্য আরেক নিয়ম”—এমন ধারণা দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে।

অস্থিরতা বাড়ছে অধিদপ্তরে  :  গ্রেড ও নন-গ্রেড কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও পদমর্যাদার প্রতি সম্মান নিশ্চিত না হলে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো তদন্ত হবে, নাকি সবকিছু আগের মতোই চলবে?

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও খাতসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।

👁️ 35 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *