অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই বহুতল ভবনে বসবাস  ! গৃহায়ণ সচিবের প্রভাবের অভিযোগে রাজউকের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন  :  নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তুষারধারায় বিতর্কিত বহুতল ভবন,স্থানীয়দের ক্ষোভ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  রাজধানীর ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুষারধারা আবাসিক এলাকার ২য় প্রধান সড়কের ১০ নম্বর সেক্টরে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম, নির্মাণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া এবং রাজউকের বাধ্যতামূলক অকুপেন্সি সনদ (Occupancy Certificate) গ্রহণ না করেই সেখানে বসবাস শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।


বিজ্ঞাপন

গৃহায়ণ সচিবের নাম ঘিরে বিতর্ক  :  এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের প্রভাব বা সহযোগিতার কারণেই সংশ্লিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। যদিও এ বিষয়ে সচিবের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের স্বাধীন সত্যতাও এখনও যাচাই হয়নি।


বিজ্ঞাপন

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সবকিছু নিয়মমাফিক হয়ে থাকে, তাহলে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে ভবনে বসবাস শুরু হলো? আর যদি অকুপেন্সি সনদ না থাকে, তাহলে রাজউক কেন এখনও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি?

রাজউকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন  :  অভিযোগ রয়েছে, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নকশা, সেটব্যাক, উচ্চতা ও অন্যান্য কারিগরি শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ছিল। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান পরিচালনার খবর পেলেই ভবনের মালিকপক্ষ বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে বছরের পর বছর অভিযোগ থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—রাজউকের কিছু কর্মকর্তা কি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, নাকি কোনো অদৃশ্য প্রভাবের কারণে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উপেক্ষিত হয়েছে?

আইন কী বলছে ? নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কোনো ভবনে বসবাসের আগে রাজউকের কাছ থেকে অকুপেন্সি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই সনদ নিশ্চিত করে যে ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে এবং সেখানে বসবাস নিরাপদ।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অকুপেন্সি সনদ ছাড়া কোনো ভবনে বসবাস শুরু করা হলে তা বিদ্যমান নির্মাণ আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা ও কাঠামোগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

নথি যাচাই ও তদন্তের দাবি :  স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমতি, সেটব্যাক সংক্রান্ত নথি এবং অকুপেন্সি সনদের অবস্থা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মন্তব্য মেলেনি  :  প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধেও ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শেষ কথা :  তুষারধারা আবাসিক এলাকার এই বহুতল ভবন ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধু একটি ভবনের অনিয়মের ঘটনা নয়; বরং রাজধানীর নির্মাণ খাতে তদারকি, জবাবদিহি ও প্রভাবশালী মহলের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করবে।

এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে—তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটনে কতটা আন্তরিক ভূমিকা পালন করে।

👁️ 68 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *