
বেনাপোল প্রতিনিধি : সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান। দাড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৯৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৪ হাজার ৩৮২।

এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ১০২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতের প্রার্থী আজিজুর রহমান, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন,এছাড়া সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৭৪১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চঞ্চল পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৭ ভোট।

শার্শা উপজেলা দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা।১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটিসব রাজনৈতিক দলের কাছেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগ সাতবার জয়ী হয়েছে। দলটির প্রার্থী তবিবর রহমান সরদার ১৯৭৩, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি এ আসনে তিনবার বিজয়ী হয়েছে-১৯৭৯ সালে আলী তারেক, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুারির নির্বাচনে মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং ২০০১ সালে আলী কদর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এছাড়া ১৯৮৬ সালে জামায়াতের নূর হুসাইন এবং ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম নজরুল ইসলাম এ আসন থেকে জয় লাভ করেন।তবে চলতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শুরু থেকেই এককভাবে মাঠে ছিলেন মাওলানা আজিজুর রহমান। দলীয় নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে প্রচারণা চালান। বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়নে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠিত প্রচারণা চালানো হয়। নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “শার্শাবাসী দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক এ আসনে বিজয়ী প্রার্থীর সামনে উন্নয়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান-এসব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শার্শা আসনের এ ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সরাসরিপ্রতিদ্বন্দ্বিতার এ ফল আগামী দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আজিজুর রহমান ৫৮৫৬ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রাথী শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে হেরেছিলেন। নৌকা প্রতীক পেয়েছিলো ৯৪৫৫৬ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছিলো ৮৮৭০০ ভোট। ভোটের পার্থক্য ছিল ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
