
নইন আবু নাঈম তালুকদার, (শরণখোলা) : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় অধিকাংশ খাল কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে গিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহারেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালাবাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে কচুরিপানা ও আগাছায় খালগুলো প্রায় ঢেকে যাওয়ায় পানি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দৈনন্দিন কাজে এ পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা খালসহ নলবুনিয়া খাল, শরণখোলার বড় খাল এবং বিভিন্ন ছোট খাল বর্তমানে কচুরিপানা ও আগাছায় প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খালগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চালরায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুল জমাদ্দার বলেন, “একসময় খালগুলো পরিষ্কার ছিল, তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে গেছে। নৌকা চলাচলও খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, “খালের পানি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে এই পানি ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায় না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরার কারণে কচুরিপানা ও আগাছা আটকে থাকে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, “নতুন কর্মরত হওয়ায় বিষয়টি জেনেছি। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী ঈদের পরপর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালগুলো পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে শরণখোলার খালগুলো আবারও আগের মতো স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে পাবে।
